হিমাচলে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপত্তি, হড়পা বানে লণ্ডভণ্ড সব, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান

আবারও প্রকৃতির রুদ্ররূপের শিকার শান্ত হিমাচল প্রদেশ। বুধবার আচমকা মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ভয়াবহতায় নেমে এল হড়পা বান, যা লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এই আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছেন বহু মানুষ, যার জেরে কুলু-সহ একাধিক জেলায় নেমে এসেছে বিপর্যয়।

সরকারি সূত্রে খবর, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর নিরলস তৎপরতায় এখনও পর্যন্ত ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এর পাশেই ভেসে উঠেছে হৃদয়বিদারক চিত্র – উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি মৃতদেহ, যার মধ্যে চারটি শনাক্ত করা গেছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায়, অনুসন্ধান অভিযান জোরকদমে অব্যাহত রয়েছে।

সৈঞ্জ উপত্যকা বিচ্ছিন্ন, আটকা বহু পর্যটক
হিমাচলের কুলু জেলার সৈঞ্জ উপত্যকার সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি ছোট সেতুও ভেসে গেছে। এর ফলে প্রচুর পর্যটক আটকা পড়েছেন, যাঁদের উদ্ধারে প্রশাসন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।

কাংড়ার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট, শালিনী অগ্নিহোত্রী সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, “যে হড়পা বানে বেশ কিছু মানুষ ভেসে গিয়েছেন। তাদের উদ্ধারের জন্য কাজ করছেন SDRF এবং স্থানীয় পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ২৫০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার কাজ সফল ভাবে হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েক জন।” তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, বানে ভেসে গিয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত পাঁচটি মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর যুদ্ধকালীন নির্দেশ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে জোর
রাজ্যের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু এদিন সমস্ত জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকার এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে জারি করা এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আজ শিমলা থেকে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভার্চুয়ালি রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সমস্ত জেলা প্রশাসকদের যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দ্রুত সাধারণ জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়।

প্রতিকূল আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে, যাতে নিখোঁজদের সন্ধান এবং আটকে পড়া পর্যটকদের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো যায়।