রথযাত্রায় ভালো ব্যবসা জমবে, উৎসব ঘিরে আশায় বাংলার বড় যাত্রাপাড়া

করোনা অতিমারীর ভয়াবহ ধাক্কা সামলে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রা শিল্প। গত কয়েক বছরে শিল্পাঞ্চলে পালা আয়োজনের লেখচিত্র ঊর্ধ্বমুখী, যা শিল্পী থেকে প্রযোজক, এমনকি বুকিং এজেন্টদের মুখেও হাসি ফুটিয়েছে। এবার রথযাত্রাতেও বাজার ইতিবাচক থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রথযাত্রার দিনটিকে যাত্রা শিল্পের ‘বোধন’ হিসেবে ধরা হয়। এই দিন থেকেই নতুন পালা আয়োজনের বায়না শুরু হয় এবং প্রত্যেকটি বুকিং কাউন্টারে ব্যস্ততা বাড়ে। যত বেশি বুকিং, তত বেশি সফর, আর সেই সঙ্গে ভরে ওঠে লাভের ভাণ্ডার। তাই রানিগঞ্জের রানিসায়রের বুকিং কার্যালয়গুলিতে এখন সাজসাজ রব।
রানিসায়রের বুকিং কেন্দ্র: যাত্রার প্রাণকেন্দ্র
রানিসায়রে প্রতিটি যাত্রাদলেরই নিজস্ব বুকিং কার্যালয় রয়েছে, যেখানে অনুমোদিত এজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে কার্যালয়গুলি পরিচালনা করেন। দক্ষিণবঙ্গের চার জেলা – পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া – এবং ঝাড়খণ্ডের সীমানায় থাকা বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এখনও যাত্রার কদর অটুট। এই বুকিং এজেন্টরাই এই কার্যালয়গুলি থেকে যাত্রাপালার জন্য বায়না করেন।
এজেন্টদের কথা অনুযায়ী, ৫০-এর দশক থেকে শিল্পাঞ্চলে এভাবেই বায়নার প্রক্রিয়া চলে আসছে। বিশেষ করে রথযাত্রার দিনে এজেন্টদের দম ফেলার সময় থাকে না। যে যত বেশি বায়না ধরতে পারবেন, সেই দলের সাফল্য তত বেশি নিশ্চিত হয়।
ফিরে আসছে সুদিন: এজেন্ট ও প্রযোজকদের আশা
গত ৪০ বছর ধরে বুকিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন ভক্তি মাহাতো। তাঁর মন্তব্য, “৯০-এর দশক পর্যন্ত যাত্রার রমরমা ছিল, তারপর আসে ভাটা। করোনার সময়ে অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এখন ধীরে হলেও ছবিটা পাল্টেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “গত তিন বছর ধরে যাত্রাশিল্পের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। গতবার প্রায় সাড়ে তিনশো পালার বায়না হয়েছিল। এবারও ব্যবসা উঠবে বলেই আশা করি। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে বায়নার উপরে।”
একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন আরেক বুকিং এজেন্ট বিপত্তারণ মাজি। তিনি বলছিলেন, “গত বছর প্রায় চারশো পালা আয়োজনের বুকিং করেছিলাম। আশা করি, এবারও ভালো হবে। বছর শেষে ভোটের বাদ্যি বাজবে। তার আগে বাজারটা ভালো হলে সকলের উপকার হবে।” সকলেই একমত যে, যাত্রার প্রতি দর্শকদের নতুন করে আগ্রহ বেড়েছে, যা তাঁদেরকে ভরসা জোগাচ্ছে।