দিঘায় জগন্নাথদেবকে কী কী উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা? জেনেনিন বিস্তারিত

বঙ্গোপসাগরের তীরে এক নতুন ইতিহাস রচনার সাক্ষী হতে চলেছে দিঘা। এই প্রথমবার সৈকত শহরে গড়াতে চলেছে মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের রথের চাকা, যা ঘিরে ভক্তকূলের উৎসাহ এখন তুঙ্গে। জগন্নাথ মন্দিরের সামনে সুসজ্জিত রথ প্রস্তুত, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রাকে নিয়ে মাসির বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করবে। এই নজিরবিহীন উৎসবের সাক্ষী হতে দিঘা এখন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানেই এই ঐতিহাসিক রথযাত্রা উৎসব পালিত হচ্ছে। গতকালই দিঘায় পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জগন্নাথদেবের জন্য তাঁর উপহার নিয়ে কৌতূহল ছিল সকলের মনে। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার জন্য আম, পেয়ারা ও বিশেষ পোশাক নিয়ে এসেছেন। জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়তদের হাতে ফল ও পোশাকের ডালি তুলে দেন তিনি। এই সময় উপস্থিত ছিলেন ইসকন কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস। উল্লেখযোগ্য, আম এবং পেয়ারা মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়ির বাগানের ফল।
শুধু উপহার প্রদানই নয়, রথ তৈরির অগ্রগতিও খুঁটিয়ে দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দিরের ৭ নম্বর গেট থেকে পায়ে হেঁটে তিনি ৩ নম্বর গেট পর্যন্ত যান, যেখানে মন্ত্রী ও হিডকোর ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে ফিতে ধরে রাস্তার সঙ্গে রথের মাপ পরীক্ষা করেন তিনি। তাঁর এই ব্যক্তিগত তদারকি উৎসবের প্রতি তাঁর গভীর আবেগকেই প্রতিফলিত করে।
আজ রথযাত্রার দিনে ভক্তদের জন্য জগন্নাথ মন্দিরের দ্বার খোলা থাকছে। তবে মূল মন্দিরে পাথরের বিগ্রহগুলি থাকবে, রথে থাকবে নিমকাঠের বিগ্রহ। সকাল ৯.৩০টা থেকে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে পুজো পাঠ শুরু হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে ২.৩০টার মধ্যে হবে আরতি, এরপরই রথের রশিতে টান পড়বে। ইতিমধ্যেই মন্দির চত্বর গাঁদা ও বাহারি ফুলে সেজে উঠেছে, আর জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে পরানো হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া নতুন পোশাক।
এই বৃহৎ উৎসবকে কেন্দ্র করে দিঘায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন রয়েছেন। ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। মহিলা পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরাও তৎপর রয়েছেন। যে কোনো আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরের ভেতরে একাধিক স্বাস্থ্য শিবির খোলা হয়েছে এবং ২টি মোবাইল হেলথ ইউনিট ও ২০টি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এমনকি হেলিপ্যাডে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং একটি হেলিকপ্টারও রাখা হয়েছে, যা উৎসবের ব্যাপকতা এবং প্রশাসনের প্রস্তুতির প্রমাণ দেয়।
দিঘার এই প্রথম রথযাত্রা নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে, যা সৈকত শহরের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।