পার্লামেন্ট বনাম সংবিধান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কে? জানিয়ে দিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি

ভারতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের পরে দায়িত্ব নেওয়া বিচারপতি বিআর গাভাই স্পষ্ট জানালেন—“ভারতের সর্বোচ্চ শক্তি সংসদ নয়, সংবিধান।”
মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে এক অনুষ্ঠানে বিচারপতি গাভাই বলেন, “অনেকেই মনে করেন সংসদই দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান, কিন্তু আমার দৃষ্টিতে সংবিধানই সর্বোচ্চ। কারণ গণতন্ত্রের তিনটি স্তম্ভ—বিচার বিভাগ, আইনসভা ও শাসন—সবই সংবিধানের অধীন।”
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারে ঠিকই, তবে তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না।”
তিনি মনে করিয়ে দেন যে গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে, সংবিধানকেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া উচিত।
প্রধান বিচারপতি গাভাই বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিলেই কেউ স্বাধীন বিচারক হয়ে যান না। বিচারকদের সব সময় মনে রাখা উচিত, আমরা কেবল ক্ষমতার অধিকারী নই, আমরা দায়িত্বপ্রাপ্তও। আমাদের কাজ সংবিধানের মূল্যবোধ ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা।”
তিনি আরও বলেন, “কোনও রায়ের পর মানুষ কী বলবে, সেই ভাবনাকে কখনও বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হতে দেওয়া যায় না। বিচারক হিসেবে স্বাধীন চিন্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
নিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি ‘বুলডোজার ন্যায়’-এর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছি, কারণ আমার কাছে মানুষের আশ্রয়ের অধিকারই সবচেয়ে বড়।”
প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের এই বক্তব্য শুধু বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধকে তুলে ধরেনি, বরং গণতন্ত্রে সংবিধানের সর্বোচ্চ অবস্থান সম্পর্কেও নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।