ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের মধ্যেই ভারত মহাসাগরে নতুন কারসাজি চিনের! মোক্ষম চাল বায়ুসেনার

ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে ভারত মহাসাগর ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। এই অস্থির সময়েই চিনের সন্দেহজনক নৌ ও বিমানচলাচল বাড়ছে সমুদ্রে, বিশেষত ভারতীয় জলসীমার কাছাকাছি। তার মোকাবিলায় এবার আরও কড়া নজরদারির পথে হাঁটল ভারতীয় বায়ুসেনা।
কেরলের কোঝিকোড় জেলার চালিয়াম এলাকায় বসানো হল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও অত্যাধুনিক র্যাডার সিস্টেম, যা ৩৬০ ডিগ্রি কভারেজে ভারত মহাসাগর থেকে আরব সাগর পর্যন্ত নজরদারি চালাতে সক্ষম।
সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং চিনের ভূখণ্ডে আয়োজিত প্রতিরক্ষা বৈঠকে সন্ত্রাস ও পাকিস্তানের উস্কানি নিয়ে সরব হন। সেই সময়েই ভারতীয় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের নজরে আসে চিনা যুদ্ধজাহাজ ও গুপ্তচর জাহাজের অস্বাভাবিক তৎপরতা।
তামিলনাড়ুর দিকে নজরদারির শক্ত র্যাডার থাকলেও, কেরলে ছিল পুরনো প্রযুক্তি। ফলে, ভারত মহাসাগরের পশ্চিম সীমান্তে নজরদারির ঘাটতি ছিল। এখন সেই ফাঁক মেটাতেই চালিয়ামে বসানো হয়েছে নতুন এই র্যাডার।
⚙️ কী ক্ষমতা এই র্যাডারের?
৩৬০ ডিগ্রি কভারেজ
ছোট নৌযান থেকে যুদ্ধজাহাজ, এমনকি যুদ্ধবিমান—সবই ট্র্যাক করতে সক্ষম
ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের আওতায় চলবে নজরদারি
আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এর আওতায় আসবে
চিন ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের গদর বন্দর ও শ্রীলঙ্কার হাম্বানতোতা বন্দরের ৯৯ বছরের লিজ নিয়েছে তথাকথিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে। অথচ বাস্তবে এই বন্দর ব্যবহার করা হচ্ছে গুপ্তচর জাহাজ, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এবং রণতরী মোতায়েনের জন্য।
ভারতের আশঙ্কা, দুই সাগর ও এক মহাসাগর জুড়ে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতেই চিনের এই কৌশল।সেই কারণেই—
ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন হয়েছে অত্যাধুনিক ডুবোজাহাজ ও ব্রহ্মস সুপারসনিক মিসাইল যুক্ত যুদ্ধজাহাজ
এবং এবার কেরল থেকে সরাসরি নজরে রাখা যাবে হাম্বানতোতা ও গদর বন্দরকে
ভারতের প্রতিরক্ষা মহল স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই নজরদারি নিছক প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নয়, এটি কৌশলগত নিরাপত্তার সুনিশ্চিত প্রতিচ্ছবি।চিনের শৈথিল্যের সুযোগে আর নয়—এই বার্তা দিতেই প্রস্তুত ভারত।