অতিবৃষ্টি নাকি কালাবাজারি? হঠাৎ সবজির দাম কেন বেড়ে গেল এত? দেখুন

টানা কয়েকদিন ধরে একনাগাড়ে বৃষ্টি হলেও বাঁকুড়া জেলায় সবজি চাষে তেমন বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। উৎপাদনও স্বাভাবিক থাকায় কৃষকরাও আগের মতোই দাম পাচ্ছেন। অথচ, সাধারণ ক্রেতার পকেট থেকে সবজি কিনতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দাম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন—বাজারে হঠাৎ এত দাম বাড়ল কেন?

দাম দ্বিগুণ: কার লাভ, কার ক্ষতি?
গত এক সপ্তাহেই বাঁকুড়ার প্রায় সব ক’টি বাজারে সবজির দাম আকাশ ছুঁয়েছে।

ঝিঙে: ₹৩০ → ₹৭০

শসা: ₹৪০ → ₹৭০

লাউ: ₹২০ → ₹৩০

বেগুন: ₹৫০ → ₹৭০

করলা: ₹৬০ → ₹৮০

পটল: ₹৩০ → ₹৪০

কাঁকরোল: ₹৫০ → ₹৮০

ঢ্যাঁড়স: ₹২০ → ₹৫০

মুলা: ₹৪০ → ₹৬০

শুধুমাত্র আমদানি নির্ভর পণ্য—টমেটো, লঙ্কা ও গাজরের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।

অভিযোগ: কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুতদারি!
জেলা উদ্যানপালন দফতরের মতে, বর্ষার শুরুতে কিছুটা বৃষ্টিপাত হলেও জমি থেকে জল দ্রুত নেমে যাওয়ায় সবজির উৎপাদনে বড় কোনও ক্ষতি হয়নি। একই দাবি করছেন বহু চাষিও। তাঁদের কথায়, “ক্ষতি তেমন হয়নি, লাভও হয়নি, কিন্তু বাজারে দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।”

এই অবস্থায় সরাসরি আঙুল উঠছে আড়তদারদের দিকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, “বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুত করে রাখা হচ্ছে সবজি। আর সেই সুযোগে বাড়ানো হচ্ছে দর।” তাঁরা বলছেন, “মাঠে যখন দাম বাড়েনি, তখন বাজারে এত চড়া দর কেন?”

টাস্ক ফোর্স কি নিস্ক্রিয়?
সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলায় রয়েছে প্রশাসনিক টাস্ক ফোর্স। তাঁদের কাজ বাজারে নজরদারি করা এবং অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন,
“টাস্ক ফোর্স কোথায়? কেন বাজারে নজরদারি নেই?”

তবে টাস্ক ফোর্সের কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, নিয়মিত বাজার পরিদর্শন হচ্ছে। বৃষ্টির প্রভাবে কিছুটা দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক, তবে পরিস্থিতি শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

শেষ কথা
বাঁকুড়ায় যেখানে উৎপাদন স্বাভাবিক, কৃষকের লাভও বেশি নয়, সেখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের জালিয়াতি কি রুখতে পারছে না প্রশাসন? দাম বৃদ্ধির চাপ এখন যাঁদের সবচেয়ে বেশি পড়ছে, তাঁরা হলেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের তরফে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।