“২৫% DA কবে পাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা?”-সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন আসন্ন

রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া ছয় সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ২৭ জুন। হাতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার সময় নিয়ে এখন চরম উৎকণ্ঠা আর আশার প্রহর গুনছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী। প্রশ্ন একটাই, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে কি আজ (বুধবার) কিংবা কাল (বৃহস্পতিবার)-ই ডিএ সংক্রান্ত বহু প্রতীক্ষিত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে চলেছে রাজ্য সরকার?
কবে মিলবে ডিএ-র টাকা? আশায় বুক বাঁধছেন কর্মীরা
জানা যাচ্ছে, আগামী ২৬ কিংবা ২৭ জুন এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। যদিও ২৭ জুন রথযাত্রা উপলক্ষে সরকারি কর্মীদের ছুটি থাকে, তবুও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নবান্ন ছুটির দিনও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে বলে জল্পনা চলছে। রাজ্যের সরকারি কর্মীরা এই মুহূর্তে অধীর আগ্রহে আশায় বুক বাঁধছেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মেনে তাঁদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ-র টাকা দেওয়া হবে কিনা।
সরকারের আইনি পরামর্শ ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ
তবে সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার এখনও বিষয়টি নিয়ে আইনি পরামর্শ নিচ্ছে। একাংশ মনে করছেন, সরকার হয়তো আরও খানিকটা সময় চাইতে পারে এবং পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে। বিজ্ঞপ্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলি নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এখন দেখার, সরকার কি ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর পথে হাঁটবে, নাকি তারা ফের সর্বোচ্চ আদালতে নতুন কোনো আবেদন নিয়ে যাবে। গোটা বিষয়টিই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সময়সীমা অমান্য করলে কী হতে পারে?
আইন অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুনের মধ্যে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করতে পারলে রাজ্য সরকার আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারে। এই আইনি জটিলতা এড়াতে রাজ্যকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। ডিএ আন্দোলনকারীরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন যে, যদি ২৭ তারিখের মধ্যে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ নিয়ে কোনো ঘোষণা না আসে, তাহলে ২৮ তারিখে মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে ই-মেল করে নোটিস পাঠানো হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা
প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ রাজ্যকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সময় রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে জানিয়েছিলেন, এটি বিপুল পরিমাণ টাকা, যা দিতে হলে রাজ্য সরকারের কোমর ভেঙে যাবে। রাজ্যের তরফে আরও দাবি করা হয়েছিল যে, ডিএ পাওয়া কোনো সাংবিধানিক অধিকার নয় এবং এই মুহূর্তে তা দেওয়া সম্ভব নয়। এর পাল্টা শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতেই হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন অগাস্ট মাসে ধার্য করা হবে বলেও বিচারপতি সঞ্জয় করোল জানিয়েছিলেন।
এই মুহূর্তে সকলের চোখ নবান্নের দিকে, কারণ রাজ্যের ভবিষ্যৎ আর্থিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এই কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।