“শাসক বদল চাই না”-ইরান নিয়ে হঠাত্‍ ট্রাম্পের U-টার্ন, হঠাৎ কি হলো ট্রাম্পের?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে ফের এক নতুন ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এতদিন ধরে ইরানের আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, সম্প্রতি তিনি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থানে গিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর সরকার ইরানে কোনো ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পতনের পথে হাঁটতে চায় না। প্রেসিডেন্টের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নেদারল্যান্ডস যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানের ভিতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “না, আমি কোনো সরকার বদল চাই না। যদি এমন কিছু ঘটেই যায়, সেটা আলাদা কথা। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য সেটা নয়। আমি চাই, সব কিছু যত দ্রুত সম্ভব শান্ত হয়ে যাক। সরকার বদল মানেই একরাশ বিশৃঙ্খলা। আমরা চাই না, সেই বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হোক।” এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কার্যত নিজের আগের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন।

কারণ গত রবিবারই তিনি তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘Truth Social’-এ লিখেছিলেন, “রেজিম চেঞ্জ” শব্দটা বলা হয়তো রাজনৈতিকভাবে ঠিক নয়। কিন্তু যদি ইরানের বর্তমান সরকার ‘মেক ইরান গ্রেট এগেন’ করতে না পারে, তাহলে ওদের সরানোই তো স্বাভাবিক, নয় কি? তাঁর এই পোস্ট তখন তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, কারণ এর ঠিক আগেই আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে একাধিক বোমাবর্ষণ করেছিল।

ওয়াশিংটন বারবার দাবি করে আসছিল যে, এই হামলার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে থামানো, কোনোভাবেই সরকার বদল নয়। এমনকি, তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ স্পষ্ট বলেছিলেন, “আমাদের মিশনের লক্ষ্য কখনোই রেজিম চেঞ্জ ছিল না।” একই বক্তব্য ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সেরও। হোয়াইট হাউস থেকেও পরে জানানো হয়েছিল, “ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন সে দেশের মানুষ। সরকার বদল আমাদের লক্ষ্য নয়।” এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান ও প্রশাসনের দাপ্তরিক নীতির মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতা তুলে ধরেছে।

এই অস্থিরতার মধ্যেই ট্রাম্প একদিকে যেমন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে তাঁকেই আবার দেখা গেল ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সদ্য শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি রক্ষা করতে মরিয়া। মঙ্গলবার ‘Truth Social’-এ তিনি লেখেন, “যুদ্ধবিরতি চলছে।” যদিও একই দিনে তেহরানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ইজরায়েল দাবি করে, তারা ইরানের একটি রাডার সিস্টেমে হামলা চালিয়েছে, কারণ ইরান যুদ্ধবিরতির পরও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ন্যাটো সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, “আমার এখন ইজরায়েলকে শান্ত করতে হবে। ইরান আর ইজরায়েল এত দিন ধরে একে অপরকে আঘাত করেছে যে, ওরা নিজেরাও জানে না কী করছে।” এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “দু’পক্ষই যুদ্ধ থামাতে চায়।”

ট্রাম্পের বারবার অবস্থান পরিবর্তন, বিশেষত সংবেদনশীল পররাষ্ট্রনীতি ইস্যুতে, আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তার এই দ্বিমুখী অবস্থান এই অঞ্চলের জটিল পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।