আবিরের স্ত্রীকে নিয়ে নোংরা মন্তব্য, রাগে ফুঁসে উঠলেন অভিনেত্রী ঋতাভরী

টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি আবীর চট্টোপাধ্যায় ও নন্দিনী চট্টোপাধ্যায়ের কলেজবেলার প্রেম থেকে শুরু করে সুখী দাম্পত্য জীবন অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সোশ্যাল মিডিয়ায় নন্দিনী চট্টোপাধ্যায়ের ‘লুক’ নিয়ে বারবার হওয়া কুরুচিকর মন্তব্য আবারও আলোচনায় এনেছে ‘বডি শেমিং’ এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিতর্ককে। এবার এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হলেন অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী, যিনি নিজেও অতীতে একই ধরনের কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন।

আবীর চট্টোপাধ্যায়কে ‘উচ্চাসনে বসিয়ে’ অনেক সময়ই মন্তব্যকারীরা লিখে থাকেন, “ভালোবাসা রূপ দেখে হয় না”। এই ধরনের মন্তব্য আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক মনে হলেও, আদতে তা যে নন্দিনীকে প্রচ্ছন্নভাবে অসম্মান করে, তা হয়তো অনেকেই উপলব্ধি করতে পারেন না। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় এর পুনরাবৃত্তি ঘটল। শহরের এক অনুষ্ঠানে আবীর ও নন্দিনীর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর, নন্দিনীর বাহ্যিক রূপ নিয়ে একের পর এক কুরুচিকর মন্তব্য আসতে শুরু করে।

এই ঘটনা দেখে আর চুপ থাকতে পারেননি অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। ভিডিওটির কমেন্ট বক্সে তিনি সরাসরি লেখেন, “আমরা কেন যে ‘ফাটাফাটি’ ছবিটা বানিয়েছিলাম, এই কমেন্ট সেকশনই তা বলে দিচ্ছে।” ঋতাভরী অভিনীত ‘ফাটাফাটি’ ছবিটি মোটা মানুষদের ফ্যাশন ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিল এবং ‘বডি পজিটিভিটি’র বার্তা দিয়েছিল। এই মন্তব্যের মাধ্যমে ঋতাভরী প্রমাণ করলেন, শিল্পীরা শুধু পর্দায় নয়, বাস্তবেও তাঁদের ছবির বার্তা ধারণ করেন।

যখন একজন ব্যবহারকারী ঋতাভরীকে মনে করিয়ে দেন যে, এই ধরনের নেতিবাচক মন্তব্যে পুরুষদের চেয়ে মহিলারাই বেশি জড়িত, তখন ঋতাভরী যোগ করেন, “মেয়েরা লিখলেও ভুল। কারও অ্যাপিয়ারেন্সের ভিত্তিতে কাউকে বিচার করা উচিৎ নয়। যেই শরীর নিয়ে কাউকে বাঁচতে হচ্ছে না, তার সেই শরীর নিয়ে মতামত কেন ভাই।” তাঁর কথায়, “এই সমাজ একসময় সতীর নামে পুড়িয়েছে। পড়াশোনা করতে দেয়নি। কিন্তু সময় লাগলেও সম্বিত ফিরেছে। আশা করি, এ ক্ষেত্রেও মানুষের চৈতন্য হবে।”

আবীর ও নন্দিনীর সংসার বহু বছরের সুখের প্রতীক। নন্দিনী চট্টোপাধ্যায় নিজে একজন উচ্চশিক্ষিত এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব। তা সত্ত্বেও বারবার তাঁর বাহ্যিক রূপ নিয়ে এই ধরনের আলোচনা ও কটাক্ষ বন্ধ হচ্ছে না। বারবার প্রতিবাদ সত্ত্বেও এই প্রবণতা থামার কোনো লক্ষণ নেই। প্রশ্ন একটাই, এই মানসিকতার শেষ কোথায়? সমাজ কবে শিখবে যে, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ভেতরের গুণাবলি ও ব্যক্তিত্বে, বাহ্যিক রূপে নয়?