‘সম্পত্তি হারানোর ভয়েই কি বিয়ে করছেন না সলমন?’ কপিল শো’-তে বিস্ফোরক মন্তব্য

বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খান সম্প্রতি নেটফ্লিক্স-এর ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-তে এসে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যা মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অর্চনা পুরান সিং যখন তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “কেন আপনি বিয়ে করছেন না?” তখন সলমন খানের উত্তর উপস্থিত দর্শকদের হতবাক করে দেয়।
সলমন তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উত্তর দেন, “আমার বিয়ে কারও জীবনে কী পার্থক্য আনবে? ব্যাপারটা হল ধৈর্য। সেই ঝগড়া, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে, সহনশীলতার কোনও অস্তিত্ব নেই। আজকাল নাক ডাকা বা ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝির কারণে মানুষের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।”
এরপর কপিল শর্মা যখন তার বিয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তখন সলমন আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “স্ত্রী যদি তাকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে? তিনি তার কষ্ট করে অর্জিত সম্পদ হারাতে চান না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, “৫৯ বছর বয়সে, বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে, তার সমস্ত সম্পদ পুনর্নির্মাণ করার শক্তি তার নেই, যদি তার স্ত্রীর অর্ধেক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়?”
নিজের স্বাস্থ্য জটিলতা প্রসঙ্গে সলমন জানান, “ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া নিয়ে কাজ করতে করতে আমার হাড় ভেঙে গিয়েছে। মস্তিষ্কে অ্যানিউরিজম এবং এভি ম্যালফরমেশন থাকা সত্ত্বেও আমি কাজ করছি। আমি অ্যাকশন করি, হাঁটতে পারি না, তবুও নাচছি। এসব আমার জীবনে চলছে।” এই কঠিন শারীরিক অবস্থার মধ্যেও তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে অনেকে মুগ্ধ হলেও, তার বিয়ের সঙ্গে সম্পদ হারানোর ভীতির সংযোগ নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
বিশেষ করে মেয়েদের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সলমন বলেন, “যে মুহূর্তে তাদের মেজাজ খারাপ হয়ে যাবে, তারা আমাদের উপার্জনের অর্ধেক নিয়ে চলে যাবে। এটা যদি আমি ছোট থাকতে হতো, তাহলে ভালো হত। সস্পত্তি হাফ চলে গেলেও ভাবতাম না, আমি আরও বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম, কিন্তু এখন আর তা করা সম্ভব হবে না।”
সলমন খানের এই মন্তব্য বলিউডে বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদ পরবর্তী সম্পত্তি ভাগাভাগির বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের আর্থিক দিকগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রশ্ন উঠছে, সলমনের এই ভীতি কি শুধু তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নাকি বর্তমান সমাজের বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত আইনি কাঠামোর প্রতি তার গভীর চিন্তাভাবনার প্রতিফলন?