“ক্ষতি করা হয়েছে ইরানের সমস্ত পারমাণবিক কেন্দ্র” দাবি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে এবার সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে নিজেদের মিত্রপক্ষের হয়ে পাশে দাঁড়াল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা স্বীকার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, এই হামলায় ‘চিরদিন মনে রাখার মতো ক্ষতি’ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী এই ক্ষতি এতটাই ব্যাপক যে ‘বিলুপ্তি’ শব্দটিই এর প্রভাব বোঝানোর জন্য সঠিক।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানের সমস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রের চিরদিন মনে রাখার মতো ক্ষতি করা হয়েছে, যেমনটা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখানো হয়েছে। বিলুপ্তিই এর জন্য একটি সঠিক শব্দ!” ফোর্দো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ কাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও যোগ করেন, “যে সাদা কাঠামোটা দেখা যাচ্ছে তা আসলে পাথরের গভীরে প্রবেশ করেছে, এমনকি এর ছাদও মাটির অনেক নিচে এবং আগুন থেকে সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে মাটির অনেক নিচে। বুলস আই!!!”
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণকারী বিশেষজ্ঞরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ফোর্দো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্যাটেলাইট ছবিতে বাঙ্কার-বিধ্বংসী বোমাগুলির দ্বারা পাহাড়ের ভেতরে ছয়টি গভীর গর্ত তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। আঘাতের স্থানগুলি চারপাশে তছনছ এবং ধুলোয় ঢাকা দেখাচ্ছে। জাতিসংঘের প্রাক্তন পারমাণবিক পরিদর্শক এবং ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির প্রধান ডেভিড অলব্রাইট এই হামলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “এমওপি (ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর) দিয়ে গুলি চালানো, বাঙ্কার-বিধ্বংসী বোমা ফেলার” সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তবে, ভূগর্ভস্থ ধ্বংসের সুনিশ্চিত প্রমাণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সিএনএ কর্পোরেশনের সহযোগী গবেষক ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশেষজ্ঞ ডেকার এভলেথ উল্লেখ করেছেন যে, শত শত সেন্ট্রিফিউজ সম্বলিত হলটি “এত গভীরে চাপা পড়ে আছে যে আমরা স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে ক্ষতির মাত্রা মূল্যায়ন করতে পারছি না।”
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের এই সতর্ক বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘বিলুপ্তি’ দাবির সাথে কিছুটা অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, আমেরিকার হামলার আগেই ইরান তার ভূগর্ভস্থ ফোর্দো কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ ভরাট করে দিয়েছিল এবং সম্ভবত হামলা থেকে রক্ষার জন্য সেন্ট্রিফিউজ স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি জানিয়েছে, ইসফাহান সাইটে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সম্ভবত এর ইউরেনিয়াম রূপান্তর কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এই কেন্দ্রে প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইডে রূপান্তরিত করা হত, যা ইরান সেন্ট্রিফিউজে ব্যবহার করত।
এই হামলা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও, চীন যেভাবে পাকিস্তানকে পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে শক্তিশালী করছে, তার মোকাবিলায় ভারতের নতুন কৌশল এবং কোন দেশের সঙ্গে হাত মেলানো উচিত, তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।