ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি ট্রাম্পের, জবাবে খামেনেই বললেন, ‘শাস্তি আমরা দেবই…’

ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে ভয়াবহ পরিণতির চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। চলমান উস্কানিমূলক আচরণের জন্য শত্রুদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার শপথ নিয়েছেন তিনি।
আমেরিকার বোমাবর্ষণে ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র আক্রান্ত হওয়ার পর আয়াতোল্লাহ খামেনেই প্রথমবারের মতো তাঁর এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘শাস্তি দেওয়া অব্যাহত থাকবে। ইহুদি শত্রুরা খুব বড় ভুল করেছে, বড় অপরাধ করেছে। এর শাস্তি তাদের পেতেই হবে। আর সে শাস্তি আমরাই দেব, এখনই দেব।’
এর আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ নীতি এবং পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তা চূড়ান্ত নিন্দনীয়। এর ফল ভুগতে হবে।’ আরাগচি সরাসরি আমেরিকাকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে কোনো দেশের এই কাজ বড় ধরনের অপরাধ।’
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জন্য ‘আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে’র ক্ষমতা ইরানের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের নীতি অনুযায়ী আমাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। ইরান প্রতিটি বিকল্পই বিবেচনা করছে।’
এদিকে, ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমেরিকা মোক্ষম জায়গায় আঘাত করেছে। ইরানের ৩ পরমাণু কেন্দ্রের বিপুল ক্ষতি হয়েছে।’ তবে, ইরান এই দাবি মানতে নারাজ। ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা (AEOI) স্পষ্ট জানিয়েছে, এই হামলায় কোনো প্রাণহানি হয়নি এবং তেজস্ক্রিয়তার কোনো ধরনের লিক বা বিকিরণের আশঙ্কাও নেই।