বাংলার আকাশজুড়ে বৃষ্টির তান্ডব! ঘুম ছুটেছে নবান্নের, তড়িঘড়ি বৈঠকে মুখ্যসচিব

বিগত কয়েক দিন ধরে বাংলাজুড়ে প্রকৃতি যেন তার রূঢ় রূপ দেখাচ্ছে। অবিরাম বর্ষণে রাজ্যের পরিস্থিতি এখন রীতিমতো সংকটময়। বিশেষত পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে লাগাতার বৃষ্টির কারণে বন্যার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নবান্নের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু জেলা বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নবান্নে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দফতর এখন প্রতিটি মুহূর্তে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

বৃষ্টির তাণ্ডব: বন্যার শঙ্কা বাড়াচ্ছে প্রতিটি ফোঁটা

পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে যেভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং নদীগুলির জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে বন্যার আশঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। যেসব এলাকায় বন্যার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, সেই সমস্ত স্থানগুলির জন্য জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। নবান্ন থেকে ইতিমধ্যেই ওই সব জেলায় বিশেষ পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

একদিকে যেমন একটানা বৃষ্টি চলছে, তেমনই বাংলার আকাশে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে তা বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাজ্যের বহু অংশে অবিরাম বর্ষণ চলছে, যার ফলস্বরূপ নদীগুলির জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে চলেছে। সামগ্রিকভাবে, গোটা রাজ্যেই পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে মোড় নিচ্ছে।

পশ্চিমাঞ্চলে চরম সংকট: ডিভিসি’র জলছাড়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলির জলস্তর বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি, পরিস্থিতি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টির কারণে লরি ডুবে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা সড়ক যোগাযোগকে ব্যাহত করছে। এর উপর রয়েছে ডিভিসি’র (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন) জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত, যা নদীর পানি আরও বাড়িয়ে বন্যার ঝুঁকিকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

আসানসোলও বিপজ্জনক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। সেখানে তিনদিনের টানা বৃষ্টির কারণে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। একটি মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম উমাপদ মণ্ডল। তিনি আসানসোল পৌরনিগমের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামুরিয়া বাকশিমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনা বৃষ্টির ভয়াবহতা এবং তার সম্ভাব্য পরিণতির এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।

নবান্নের প্রস্তুতি: বিপর্যয় মোকাবিলায় দৃঢ় সংকল্প

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলায় নবান্নের তরফ থেকে জোরদার প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে জরুরি বৈঠক শেষ হয়েছে, এবং সমস্ত জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা তাদের এলাকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং দ্রুততার সাথে রিপোর্ট করবে। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে, রাজ্যে বন্যার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই আগেভাগেই সতর্ক হয়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে চাইছে নবান্ন, যাতে সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলা করা যায়। রাজ্যের মানুষ এখন প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ থেকে দ্রুত মুক্তির অপেক্ষায়।