রক্ষকই ভক্ষক? মদ খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ! গ্রেপ্তার হলেন পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর

বন্ধুত্ব হয়েছিল জেলের চার দেওয়ালের আড়ালে। সেই ঘনিষ্ঠতা গড়ালো ভয়ংকর অভিযোগে। এবার মদ-মিষ্টি খাইয়ে বেহুঁশ করে একাধিকবার ধর্ষণ এবং সেই ছবি ভাইরাল করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে খোদ রাজ্য পুলিশের এক এএসআই-এর বিরুদ্ধে, যিনি বর্তমানে শ্রীঘরে। ‘রক্ষকই ভক্ষক’ – এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে, যখন জাল কোভিড ভ্যাকসিন মামলায় ধৃত এক ব্যক্তিকে দেখতে তাঁর স্ত্রী যেতেন প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে। টাকার প্রয়োজনে একটি গাড়ি ও একটি মোটরবাইক বিক্রির চেষ্টা করছিলেন ওই মহিলা। ঠিক সেই সময়েই অভিযুক্ত এএসআই বিভিন্ন মামলার আসামিদের জেলে নিয়ে যেতেন। পুলিশ সূত্র বলছে, সেখানেই ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর পরিচয় এবং ক্রমে বন্ধুত্ব হয়। অভিযোগকারিণী জানান, ওই এএসআই নিজেকে কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর হিসেবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন যে, তাঁর স্বামী এএসআই-এর বন্ধু।

অভিযোগ, ২০২২ সালের ১০ই অক্টোবর অভিযুক্ত দুটি গাড়ি কিনতে রাজি হন এবং ২০ হাজার টাকা অগ্রিমও দেন। গাড়ির এই অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে তিনি দক্ষিণ কলকাতায় মহিলার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। এরপর থেকেই বাড়িতে মদ-মিষ্টি নিয়ে যাওয়া শুরু করেন।

মহিলার দাবি, ২০২৩ সালের ২৪শে জানুয়ারি জোর করে মদ খাইয়ে তাঁকে এবং তাঁর মেয়েকে বেহুঁশ করা হয়। এরপর মেয়েকে অন্য ঘরে রেখে অভিযোগকারিণীকে ধর্ষণ করেন ওই এএসআই। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ছবি তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ।

২০২৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি মহিলা গাড়ির বাকি টাকা চেয়ে অভিযুক্তকে ফোন করেন। পরের দিন টাকা দেওয়ার অজুহাতে অভিযুক্ত তাঁর বাড়িতে এলেও টাকা দেননি। এমনকি, গাড়ি ফেরত চাইলে সেটিও দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। উল্টে, আবারও জোর করে মদ্যপান করিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ১৩ই এপ্রিল অভিযুক্ত ফের ওই মহিলার বাড়িতে গিয়ে একই ভাবে মদ খাইয়ে ধর্ষণ করেন এবং মারধরও করেন বলে অভিযোগকারিণী জানান।

মহিলার দাবি, জ্ঞান ফিরলে তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত পুলিশের প্রভাব খাটানোর হুমকি দিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর ভয় দেখান। পুলিশের কাছে তাঁর অভিযোগ, তিনি গাড়ির টাকা তো পাননিই, উল্টে মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

অবশেষে, ২০২৪ সালের ২৪শে এপ্রিল নেতাজিনগর থানায় আইপিসি-র ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৪২০ (প্রতারণা), ৪১৯ (প্রতারণার জন্য কোনও ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশা) ধারায় মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতা। পরে মামলাটি পাটুলি মহিলা থানায় স্থানান্তরিত হয়।

পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি অভিযুক্ত এএসআইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে এর আগেও ২০২২ সালের ৭ই জুন বড়বাজারে ডাকাতির ঘটনায় মামলা ছিল এবং তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন, পরে জামিন পান। ধৃত বিবাহিত এবং তাঁর আদি বাড়ি বোলপুরে।

অভিযুক্তের আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের দাবি, “অভিযোগ সত্য নয়। ওই মহিলা আমার মক্কেলকে ফাঁসাচ্ছেন। এর পিছনে গাড়ি নিয়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয় রয়েছে।” আদালত ধৃতের ২৩শে জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।