পহেলগাম হামলা! ৫৫ দিন কেটে গেলেও নিরুত্তর কেন্দ্র? অভিষেকের পঞ্চবাণে কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধোনা

২২ এপ্রিল ভূস্বর্গ কাশ্মীরের পহেলগাম অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ৫৫ দিন কেটে গেলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও আততায়ী ধরা পড়েনি। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এবার তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর X হ্যান্ডেলে তিনি পাঁচটি ‘জ্বলন্ত প্রশ্ন’ তুলে সরকারের দায়িত্ববোধ, স্বচ্ছতা ও প্রতিক্রিয়ার ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
প্রশ্ন ১: সীমান্ত সুরক্ষায় গলদ কোথায়?
অভিষেকের প্রথম প্রশ্নটি সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে। তিনি লেখেন, “आतंकी भारत में घुसे कैसे? इतनी कड़ी सुरक्षा व्यवस्था के बावजूद, क्या यह खुफिया विफलता नहीं? এই বিশাল নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য দায়ী কে?” সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ রোধে এত প্রযুক্তি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এমন হামলা ঘটে যাওয়াকে তিনি গভীর উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি কি গোয়েন্দা ব্যর্থতা নয়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
প্রশ্ন ২: ব্যর্থতার পর IB প্রধানের মেয়াদ বৃদ্ধি কেন?
সন্ত্রাসী হামলার মাত্র এক মাস পরেই ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB) প্রধানের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন: “ব্যর্থতার পর পুরস্কার দেওয়ার কারণ কী?” তিনি আরও প্রশ্ন করেন, “সরকার যদি PEGASUS স্পাইওয়্যার বিরোধী নেতা, সাংবাদিকদের উপর ব্যবহার করতে পারে, তাহলে সন্ত্রাসবাদীদের উপর এই প্রযুক্তি প্রয়োগে বাধা কোথায়?”
প্রশ্ন ৩: হামলাকারীরা গেল কোথায়?
৫৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এই নারকীয় হামলার জন্য দায়ী সন্ত্রাসবাদীদের কাউকে এখনও ধরা যায়নি বা নিকেশ করার খবর নেই। অভিষেক জানতে চেয়েছেন, “এই নারকীয় হামলার জন্য দায়ী চার সন্ত্রাসবাদী কোথায়? তারা কি মারা গেছে, না বেঁচে আছে?” যদি মারা গিয়ে থাকে, তাহলে সরকার কেন এখনও পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
প্রশ্ন ৪: PoK নিয়ে ভারতের নীরবতা কেন?
‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরুর পর ভারতের পক্ষ থেকে একটি সামরিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও, হঠাৎ ১০ মে সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করা হয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে অভিষেক কোনো সরাসরি প্রশ্ন না তুললেও, এটি PoK সংক্রান্ত ভারতের কৌশলে এক ধরনের নীরবতা বা পরিবর্তন ইঙ্গিত করছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
প্রশ্ন ৫: আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের কূটনৈতিক পরাজয়?
অভিষেকের পঞ্চম এবং শেষ প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যে দেশ ভারতীয় মাটিতে রক্ত ঝরাচ্ছে, সেই পাকিস্তান IMF এবং বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পাচ্ছে – এটি ভারতের কূটনৈতিক পরাজয় নয় কি?” ভারতীয় মাটিতে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত একটি দেশের আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ঘটনাকে তিনি ভারতের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
অভিষেকের এই পাঁচটি প্রশ্ন কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং পহেলগাম হামলার তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে আরও স্বচ্ছতার দাবি তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্র এই প্রশ্নগুলোর কী জবাব দেয়।