“সেবাইত ছাড়া অন্য কেউ রথে উঠলেই…?”-কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী

আগামী ২৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ উৎসব, পুরীর রথযাত্রা। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে জগন্নাথদেবের রথের রশি ছুঁয়ে পুণ্য অর্জনের আশায়। এই বিপুল জনসমাগম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ওডিশা সরকার এবার একগুচ্ছ নতুন ও কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রথে আরোহণের বিষয়েও নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে।

ওডিশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচরণ স্পষ্ট জানিয়েছেন, চলতি বছরে সেবাইত ছাড়া আর কাউকেই রথে উঠতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “সেবাইত নন এমন কেউ জগন্নাথ, বলভদ্র বা সুভদ্রার রথে উঠলেই তার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।” এমনকি, নিয়ম ভঙ্গকারীদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই কড়াকড়ি ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং রথযাত্রার পবিত্রতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।

শুধু রথে আরোহণের ক্ষেত্রেই নয়, মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচরণ রবিবার জানান, “চলতি বছরে কেবলমাত্র পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সেবাইতদেরকেই রথে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে তাঁদেরকেও কিছু নিয়ম মানতে হবে। কোনও সেবাইতকে মোবাইল ফোন-সহ রথে উঠতে দেওয়া হবে না।”

এছাড়াও, ‘পাহান্ডি বিজে’ বা রথযাত্রার সময়কার রীতিনীতি নির্দিষ্ট সময়ে পালনের জন্য সেবাইতদের নামের তালিকা চেয়েছে ওডিশা সরকার। কেবলমাত্র যাদের নাম এই তালিকায় থাকবে, তারাই রথে আরোহণ করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা রথযাত্রা সুষ্ঠুভাবে এবং ঐতিহ্য মেনে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে।

পুরীর রথযাত্রায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার প্রযুক্তিগত দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। ওডিশার ডিজিপি যোগেশ বাহাদুর খুরানিয়া জানিয়েছেন, পুরী থেকে ভুবনেশ্বর এবং কোনার্ক যাওয়ার রাস্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

এই বছরেই প্রথমবার, ভিড় এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পুরী টাউন থানায় একটি ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড এবং কন্ট্রোল সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। ডিজিপি আরও জানান, “রিয়েল টাইম মনিটরিং” করার জন্য পুরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে এআই-যুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। রথযাত্রার সময়ে পুরীতে আগত ভক্তদের সুবিধার জন্য চালু করা হচ্ছে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ।

ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, রথযাত্রার সময়ে পুরীতে ড্রোন এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ব্যবহার করা হবে, যাতে আকাশপথেও নিশ্ছিদ্র নজরদারি বজায় থাকে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।

পুরীর রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ওডিশার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নতুন এই পদক্ষেপগুলি রথযাত্রাকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।