পাওয়া গিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার বিধ্বস্ত বিমানের দ্বিতীয় ব্ল্যাক বক্স-ও, জানা যাবে দুর্ঘটনার কারণ?

আহমেদাবাদে ভেঙে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ ফ্লাইটের দ্বিতীয় ব্ল্যাক বক্স, অর্থাৎ ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR) উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে, দুর্ঘটনার পরদিনই ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) উদ্ধার হয়েছিল। দুটি ব্ল্যাক বক্সই উদ্ধার হওয়ায় বিমান দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্তকারী আধিকারিকদের কাজ অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সচিবের পরিদর্শনে উদ্ধারকৃত ব্ল্যাক বক্সের তথ্য উপস্থাপন
রবিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রধান সচিব পি কে মিশ্র আহমেদাবাদে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে আহতদের সঙ্গেও দেখা করেন। তাঁর এই পরিদর্শনের সময়েই আধিকারিকরা দ্বিতীয় ব্ল্যাক বক্স, অর্থাৎ ককপিট ভয়েস রেকর্ডারটি পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার এই ফ্লাইটটি আহমেদাবাদে ভেঙে পড়েছিল। এর পরদিন, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাদ থেকে প্রথম ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার হয়েছিল বলে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেটিগেশন ব্যুরো (AAIB)-এর আধিকারিকরা জানিয়েছিলেন।
দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে নতুন দিশা
এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রায় ২৭০ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪১ জনই ছিলেন বিমানের যাত্রী। অলৌকিকভাবে একজন মাত্র যাত্রী এই দুর্ঘটনায় বেঁচে গিয়েছিলেন।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ককপিট ভয়েস রেকর্ডারটি হাতে আসার পর তদন্তে বড় সুবিধা হবে। এই ব্ল্যাক বক্সটি থেকে ককপিটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথন শোনা যাবে, যা দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ জানতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।
পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, রবিবারই আহমেদাবাদের সার্কিট হাউসে পি কে মিশ্রর সভাপতিত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেটিগেশন ব্যুরো এবং এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (AAI) একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই বৈঠকে পি কে মিশ্র কেন্দ্রীয় ও গুজরাট রাজ্য সরকার, AAIB এবং AAI-এর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানেই তাঁকে ফ্লাইটের দুটি ব্ল্যাক বক্সই (CVR এবং FDR) পাওয়ার খবর জানানো হয়।
আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন, এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেটিগেশন ব্যুরো এই বিমান দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)-ও সমান্তরালভাবে এই তদন্তে সহযোগিতা করছে। আশা করা হচ্ছে, দুটি ব্ল্যাক বক্সের প্রাপ্ত তথ্য এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় অদূর ভবিষ্যতেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।