OMG! সিভিক ভলান্টিয়ারের কোমরে দড়ি বেঁধে কান ধরে ওঠবোস, গ্রেফতার হলেন ২ জন

একবিংশ শতাব্দীর বাংলায় এমন বর্বরতা! হাওড়ায় কোমরে ও পায়ে দড়ি বেঁধে এক যুবককে ওঠ-বস করানোর অমানবিক একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ভিডিওতে যাঁকে এই পাশবিক অত্যাচারের শিকার হতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নাম শ্রীধর চক্রবর্তী, পেশায় তিনি একজন সিভিক ভলান্টিয়ার।
আজতক বাংলা এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই না করলেও, এর দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি, এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা, যেখানে বিজেপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
হাওড়া জেলা গ্রামীণ তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অরণ্য সেন ওরফে রাজা সেন এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেছেন, “এই ঘটনার সত্যতা কতটা, তা আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব। তারপরই মন্তব্য করা যাবে।” দলের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমার কাছে এখনও বিস্তারিত তথ্য নেই। লোকাল লিডারের থেকে পুরো বিষয়টি জেনে তারপর তদন্ত করা হবে।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তৃণমূল এই মুহূর্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাওড়া গ্রামীণ বিজেপি সভাপতি দেবাশিস সামন্ত শাসক দলের উপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এই ধরনের অমানবিক ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটছে। আমাদের মণ্ডল সভাপতিকে বলপ্রয়োগ করে বলা হয়েছে, ‘বল তোকে বলেছে এই কথা বলতে।'”
দেবাশিস সামন্ত আরও বলেন, “এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার। পুলিশ যেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে। কারণ ২০২৬-এ সরকার বদল হতে পারে। পুলিশ কি তখনও তৃণমূলের হয়ে কাজ করবে, না কি নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে? পুলিশকে এখন থেকেই সেই দায়িত্ব বুঝতে হবে।” বিজেপির এই বক্তব্য পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের দিকেও ইঙ্গিত করেছে।
এই অমানবিক ঘটনায় টনক নড়েছে পুলিশের। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ সুপার সুবির্মল পাল জানিয়েছেন, “ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর আমরা নিজেরাই একটি অভিযোগ দায়ের করি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে তোলা হবে।”
পুলিশ সুপার আরও জানান, “যে সিভিক ভলান্টিয়ারকে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ একদিকে যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে প্রশ্ন তুলছে, এমন ঘটনা ঘটার পিছনে কী কারণ থাকতে পারে।
এই ঘটনার জেরে হাওড়ায় নতুন করে রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকেই। এই ঘটনায় তদন্তে কী উঠে আসে এবং কারা এর জন্য দায়ী বলে প্রমাণিত হন, এখন সেটাই দেখার। জনমানসে এই ঘটনা কী প্রভাব ফেলে, তার দিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।