“ইসরায়েলকে হামলার চড়া মূল্য দিতে হবে”-হামলার জন্য বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তেহরান। আজ শুক্রবার ভোররাতে ইরানের রাজধানী তেহরান ছাড়াও নাতাঞ্জ শহরে এসব হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এই হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে ‘বিশেষ জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র আবুলফজল শেখারচি এক বিবৃতিতে বলেন, “জায়নবাদী এ হামলার জবাব অবশ্যই ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দেবে।” তিনি আরও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইসরায়েলকে তার হামলার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর জবাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, “ইসরায়েলের হামলার জবাব হবে কঠোর ও ফলাফল নির্ণায়ক।” প্রতিশোধের বিস্তারিত নিয়ে বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে বলেও সূত্রটি ইঙ্গিত দিয়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবর অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (বিপ্লবী গার্ড) সদর দপ্তরেও হামলা হয়েছে। এই হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি ছাড়াও ২৫ বছর ধরে দেশটির পারমাণবিক শক্তিবিষয়ক সংস্থার প্রধানের দায়িত্বে থাকা ফারেদুন আব্বাসি নিহত হয়েছেন। এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়া ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তেহরান থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে নাতাঞ্জ শহরে অবস্থিত ইরানের প্রধান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রেই তাঁর দেশ হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের যেসব বিজ্ঞানী দেশটির জন্য (পারমাণবিক) বোমা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “যত দিন প্রয়োজন, তত দিন এমন হামলা চলবে।”
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তেহরানজুড়ে ৬ থেকে ৯টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলা হয়েছে আবাসিক ভবনেও। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ইরানে ‘আগাম প্রতিরোধমূলক’ হামলা চালিয়েছে তাঁর দেশ। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলজুড়ে ‘বিশেষ জরুরি অবস্থা’ জারির ঘোষণা দিয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। বিশ্বজুড়ে এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।