‘মাত্র ১০ মিনিটের জন্য…’ বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচেও আতঙ্কে শরীর কাঁপছে ‘যাত্রী’র

ভাগ্য কখনও কখনও অবিশ্বাস্যভাবে কাজ করে। একটি ছোট ঘটনা কিভাবে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ ভূমি চৌহান। বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদে যে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার (ফ্লাইট AI-171) বিমানটি টেকঅফের পরপরই ভেঙে পড়লো, ঠিক সেই ফ্লাইটেই লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল ভূমির। হাতে টিকিট থাকা সত্ত্বেও, মাত্র ১০ মিনিটের যানজট তার জীবন বাঁচিয়ে দিল। যে ফ্লাইট তার লন্ডনে ফেরার কথা ছিল, সেই ফ্লাইটই হয়ে দাঁড়ালো এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী।

বিমান দুর্ঘটনার খবর শোনার কয়েক ঘণ্টা পরেও ভূমির শরীর কাঁপছে। তিনি এখনও শিউরে উঠছেন শুধু এই ভেবে যে, ওই বিমানে থাকলে কী হতে পারত। তিনি যেন নিজের ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারছেন না, আর তাই বারবার বলছেন, “বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছি।”

একটি সর্বভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে ভূমি জানিয়েছেন, তিনি প্রায় দুই বছর পর দেশে ফিরেছিলেন এবং বৃহস্পতিবারই তার স্বামীর কাছে লন্ডনে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তার টিকিট ছিল এআই-১৭১ ফ্লাইটের, যা আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়।

ঠিক কী হয়েছিল? ভূমি জানান, বিমানবন্দরের দিকে আসার পথে তিনি তীব্র যানজটে আটকে পড়েন। এই যানজটের কারণেই তার বিমানবন্দরে পৌঁছাতে ১০ মিনিট দেরি হয়ে যায়। এই ১০ মিনিটই যেন তার জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে বিভেদ রেখা তৈরি করে দিল। বিমানটি যখন উড়ে যায়, তখন ভূমি বিমানবন্দরের বাইরেই আটকে ছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই তিনি জানতে পারেন সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর, যেখানে প্রায় সমস্ত যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুধু একজন বেঁচে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভূমি বলেন, “ওই দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির খবর শুনে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি। আমার শরীর আক্ষরিক অর্থেই কাঁপছে। আমি কথা বলতে পারছি না। যা ঘটেছে তা শুনে শিউড়ে উঠছি আমি। আমারও ওই ফ্লাইটে যাওয়ার কথা ছিল। যানজটের কারণে আমার বিমানবন্দরে ঢুকতে ১০ মিনিট দেরি হওয়ায় ওই ফ্লাইট ধরতে পারিনি আমি। না হলে কী যে হতো তা আমি ভাবতেই পারছি না। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। গণপতি বাপ্পা আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।”

ভূমি চৌহানের এই অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার শোকাবহ আবহের মধ্যেও এক অদ্ভুত চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এটি যেন নিয়তির এক নির্মম খেলা, যেখানে সামান্য কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জীবন আর মৃত্যুর সীমান্ত নির্ধারিত হয়ে যায়।