“ব্লু ফিল্মে নামাতে চেয়েছিল”-বিস্ফোরক দাবি করলেন সোদপুরের অত্যাচারিতা তরুণীর মা

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের লোভনীয় চাকরির ফাঁদ পেতে হাওড়ার ডোমজুড়ে এক ২৩ বছর বয়সী তরুণীকে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক যুবক ও তার মায়ের বিরুদ্ধে। শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে তরুণীর কোমর ও পায়ের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। তরুণীর অভিযোগ, তাকে পানশালায় নাচতে এবং যৌন ব্যবসায় নামতে বাধ্য করা হচ্ছিল। রাজি না হওয়ায় চলত নির্মম মারধর, এমনকি চুল কেটে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোদপুর সুখচরের বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে হাওড়ার ডোমজুড়ের আরিয়ান খান-এর পরিচয় হয় ২০২৪ সালে। গত ডিসেম্বরে আরিয়ান তাকে ইভেন্টের কাজের প্রস্তাব দিয়ে হাওড়ায় ডেকে পাঠান। তরুণী কাজের জন্য ডোমজুড়ে আরিয়ানদের বাড়িতে গেলে, আরিয়ান খান ও তার মা শ্বেতা খান তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আটকে রাখে বলে অভিযোগ।
তরুণী জানিয়েছেন, তাকে জানানো হয় ইভেন্টের কোনো কাজ নেই, বরং পানশালায় নাচতে হবে এবং তার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিনি রাজি না হলে শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন। অভিযোগ, তাকে দিয়ে জোর করে বাড়ির সমস্ত কাজ করানো হত। কাজ করতে না চাইলে নির্মমভাবে মারধর করা হত শরীরের একাধিক জায়গায়। তরুণীর মায়ের অভিযোগ, “মেয়েকে যৌন ব্যবসায় নামাতে চেয়েছিল। ব্লু ফিল্মের জন্য ভিডিও রেকর্ড করতে জোর করছিল। রাজি না হোয়ায় অত্যাচার করে। ছেলেটির মা বেশি অত্যাচার করত।”
মারধরের চোটে তরুণীর কোমর ও পায়ের হাড় ভেঙে যায়। প্রতিবাদ করলে চুল কেটে দেওয়া হত। চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত। তাকে খারাপ এলাকায় বিক্রি করে দেওয়া বা কিডনি বিক্রির মতো ভয়াবহ হুমকিও দেওয়া হত বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার কোনোক্রমে ডোমজুড় থেকে পালিয়ে আসেন নির্যাতিতা তরুণী। সোদপুরে নিজের বাড়িতে ফিরে এসে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাকে প্রথমে খড়দা বলরাম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।
নির্যাতিতা তরুণী আরিয়ান খান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে খড়দা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে খড়দা থানা ও ডোমজুড় থানার পুলিশ এবং ব়্যাফ বাঁকড়া বাজার এলাকায় অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দেয়। কিন্তু বাড়িতে তালা বন্ধ ছিল এবং কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। পুলিশ আশপাশের কয়েকটি ফ্ল্যাট ও বাড়িতেও তল্লাশি চালায়। অভিযুক্ত মা ও ছেলে, আরিয়ান খান ও শ্বেতা খান, বর্তমানে পলাতক।
এই ঘটনার তদন্তে খড়দা ও ডোমজুড় থানার পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। এমন ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।