“ওই দিনগুলো মিস করি…”-অরিজিতের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রূপরেখার? জবাবে যা বললেন গায়িকা

২০০৫ সালের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এর বিজয়ী হয়ে লাইমলাইটে এসেছিলেন বাংলার মেয়ে রূপরেখা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকেই আশা করেছিলেন, তিনি মায়ানগরীতে নিজের জমি শক্ত করবেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় কুড়ি বছরে সেভাবে কাজ না পেলেও, বারবার তিনি শিরোনামে এসেছেন। বিশেষ করে, অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ের গুঞ্জন বছর বছর ধরে চলে আসছে। এবার সেই দীর্ঘদিনের চর্চা নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন রূপরেখা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং বরাবরই পাপারাৎজিদের থেকে দূরে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রচারের অন্তরালে থাকতে পছন্দ করেন তিনি। এমনকি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে প্রেম-বিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও, তিনি খুব সন্তর্পণে তা এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে নেটমাধ্যমে উঁকি মারলেই মেলে নানা তথ্য—যার মধ্যে বহু গুজবও রয়েছে। ‘ফেম গুরুকুল’ থেকে তাৎক্ষণিক বিরাট লাইমলাইট না পেলেও, এর বছর পাঁচ-ছয়েক পরে অরিজিৎ-এর ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমের সহযোগী হিসেবে কাজ করার পর থেকে ক্রমশ পরিচিতি পেতে শুরু করেন তিনি, এবং বর্তমানে তিনি বিশ্বজুড়ে ‘গ্লোবাল স্টার’।

ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ছিল যে, প্রীতমের সঙ্গে মিউজিক প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করার সময়ই ‘ফেম গুরুকুল’-এর প্রতিযোগী রূপরেখা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি বিয়ে করেছিলেন অরিজিৎ। তবে এই খবরকে স্রেফ ‘গুজব’ বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন রূপরেখা। এমনকি ২০২১ সালে সোশ্যাল মিডিয়াতে লাইভে এসে তিনি পরিষ্কার জানান, এই তথ্য একেবারেই ভুল এবং অরিজিৎ-এর সঙ্গে তাঁর কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক নেই। তা সত্ত্বেও এই চর্চা থামেনি।

সংবাদমাধ্যমকে অরিজিতের সঙ্গে বিয়ে প্রসঙ্গে রূপরেখা বলেন, “এটা নিছকই একটা গুজব। এর মধ্যে কোনও সত্যতা নেই। আমি আগেও বলেছি। এই ধরণের কথা আমাকে এবং আমার পরিবারকে বিরক্ত করেছে। প্রথম দিকে গুরুত্ব দিইনি। পরে দেখলাম বিষয়টা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের ভাল বন্ধুত্বটা এভাবে কালিমালিপ্ত হল বলে খারাপ লাগে।” তিনি আরও জানান, এই বিষয়টি নিয়ে অরিজিতের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, কিন্তু তাঁর তরফ থেকে কোনো জবাব পাননি।

অরিজিতের সঙ্গে বর্তমানে যোগাযোগ আছে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে রূপরেখা জানান, “২০১৮ পর্যন্ত খুব ভাল যোগাযোগ ছিল। এখন ও নিজের নম্বর বদলে ফেলেছে। তাছাড়া এখন ও গ্লোবাল স্টার। ওর ম্যানেজারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। চাইলে হয়তো নতুন নম্বর নিয়ে যোগাযোগও করতে পারি। কিন্তু সেটা আর করিনি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা খুব ভাল বন্ধু ছিলাম। ওই দিনগুলো মিস করি। তবে খুব গর্ব হয় যে আমাদের মধ্যে একজন এ রকম সফল হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, অরিজিৎ সিং-এর লাভ লাইফের দ্বিতীয় ইনিংসটি ছিল একেবারে গল্পের মতো। ছোটবেলার বান্ধবী কোয়েল রায়কে বিয়ে করেন এই সঙ্গীতশিল্পী। ২০১৪ সালে তারাপীঠে একেবারেই অনাড়ম্বরভাবে কাছের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের নিয়ে সাত পাকে বাঁধা পড়েন কোয়েল ও অরিজিৎ। একই স্কুলে পড়াশোনা করতেন তাঁরা। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, কোয়েল বিবাহবিচ্ছিন্না এবং তাঁর প্রথম পক্ষের এক সন্তানও রয়েছে। অন্যদিকে, অরিজিৎ-এরও প্রথম বিয়ে সুখের হয়নি। অনেক বাধা পেরিয়ে ২০১৪-তে এক হন ছোটবেলার দুই কাছের বন্ধু। শোনা যায়, কোয়েলের কাছে প্রেমের প্রস্তাব গিয়েছিল অরিজিৎ-এর তরফেই, এবং তিনিও সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান।

রূপরেখার এই স্পষ্টীকরণ অরিজিৎ-কে ঘিরে দীর্ঘদিনের এক গুজবের অবসান ঘটাবে বলেই মনে করছে সঙ্গীতমহল।