কাদা ভর্তি রাস্তা দিয়ে মন্ত্রীকে হাঁটতে বাধ্য করালেন মহিলারা! ঘটনায় যা বললেন উদায়ন গুহ

দীর্ঘদিনের বেহাল রাস্তার দুর্দশা চাক্ষুষ করাতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহকে কাদা ভর্তি রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করালেন দিনহাটা-২ ব্লকের বুড়িরহাট-১ পঞ্চায়েতের কুকুরকচুয়া গ্রামের মহিলারা। বুধবার মন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মসূচির সময় এই অভিনব প্রতিবাদ দেখিয়ে নিজেদের দুর্দশা তুলে ধরেন স্থানীয়রা।

বুধবার উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ যখন কুকুরকচুয়া গ্রামে জনসংযোগ কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন, তখন স্থানীয় মহিলারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। মন্ত্রীর কাছে তাদের একটাই অনুরোধ ছিল, “আপনি নিজে এই রাস্তায় হাঁটুন, দেখুন আমরা কতটা সমস্যায় থাকি।” মন্ত্রী প্রথমে কিছুটা ইতস্তত করলেও, মহিলাদের অনড় মনোভাব দেখে শেষ পর্যন্ত সেই কাদা ভরা রাস্তা দিয়েই হেঁটে যান। নিজের চোখে রাস্তার বেহাল দশা দেখে তিনিও চমকে ওঠেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ বলরামপুর রোড থেকে কুকুরকচুয়া পর্যন্ত এই রাস্তাটি বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে পড়ে রয়েছে। বর্ষা এলেই রাস্তাটি জল জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এমনকি, রাস্তায় বড় বড় গর্তও তৈরি হয়, যা প্রায়শই দুর্ঘটনার কারণ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার সরকারি কর্মীরা রাস্তা পরিদর্শনে এলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।

গ্রামের এক মহিলা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবার ভোটের আগে রাস্তা ঠিক করার আশ্বাস দেওয়া হয়। তারপর কেউ আর ফিরে তাকায় না। কতবার মাপজোখ করতে লোক এসেছে কিন্তু রাস্তা আজও সেই অবস্থাতেই পড়ে আছে।” গ্রামবাসীরা এখন আশাবাদী যে, মন্ত্রী নিজে হেঁটে যাওয়ার পর এবার হয়তো রাস্তার সংস্কার হবে।

মন্ত্রী উদয়ন গুহ এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “বর্ষার জন্যই রাস্তার এই অবস্থা। যতটা সম্ভব আমরা মেরামতির চেষ্টা করছি। আরও অনেক রাস্তা ঘুরে দেখার অনুরোধ পেয়েছি। তবে এই রাস্তাটি দেখেই বাকিগুলোর অবস্থাও আঁচ করতে পারছি।” তিনি দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। মানুষজন মন্ত্রীর সামনে এসে পানীয় জল, সেচ, রাস্তাঘাট সহ একাধিক সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। মন্ত্রীও প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

এই অভিনব প্রতিবাদ স্থানীয়দের দৃঢ় সংকল্প এবং প্রশাসনের কাছে তাদের সমস্যার গুরুত্ব তুলে ধরার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এখন দেখার পালা, মন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পর কুকুরকচুয়া গ্রামের রাস্তার ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আসে কিনা।