বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে যাত্রী মৃত্যু! প্রাণ বাঁচানো কেন সম্ভব হল না? উঠছে প্রশ্ন

হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ – হাওড়া-পুরী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে এক যাত্রীর মৃত্যু ঘিরে রেলের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। যাত্রীরা অভিযোগ তুলেছেন, দক্ষিণ পূর্ব রেলের অনিয়মিত ট্রেন চালানোর অভ্যাস এতটাই প্রকট যে, এর প্রভাব অন্যান্য জোনেও পড়ছে, যার ফলশ্রুতিতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। অনেকেই মনে করছেন, সময় মতো ব্যবস্থা নিলে হয়তো ওই অসুস্থ যাত্রীটিকে বাঁচানো যেত।

বুধবার হাওড়া থেকে পুরীগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল। সকাল ৬টার পরিবর্তে ট্রেনটি হাওড়া থেকে সকাল ৮টায় ছাড়ে। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাতের প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে ট্রেনটি দেরিতে আসে এবং সেটের রক্ষণাবেক্ষণে সময় লাগার কারণেই এই সময় পরিবর্তন।

কটক থেকে ভুবনেশ্বর: ৪০ মিনিটের পথ, ৬টি স্টেশন – তবুও কেন বিলম্ব?
রেল সূত্রে খবর, ট্রেনটি কটক স্টেশন ছাড়ার পর C2 কামরার এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে কমার্শিয়াল বিভাগের অন-বোর্ড টিকিট পরীক্ষকের কাছে খবর আসে। যাত্রীদের অভিযোগ, কটকে ঢোকার আগে ট্রেন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। রেল ওই যাত্রীর সঙ্গীদের জানায় যে খুরদা রোড স্টেশনের কাছে একটি রেল হাসপাতাল রয়েছে এবং সেখানে চিকিৎসক দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু ওই যাত্রীর পরিবার ও সহযাত্রীরা এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ জানান। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় যে, ভুবনেশ্বর স্টেশনে চিকিৎসক দেখানো হবে।

উল্লেখ্য, কটক থেকে ভুবনেশ্বর যেতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে এবং এই দুই স্টেশনের মাঝে আরও ৬টি স্টেশন আছে। ভুবনেশ্বর থেকে খুরদা রোড যেতে সময় লাগে ১৮ মিনিট, এবং এর মাঝে ২টি স্টেশন রয়েছে। যাত্রীদের প্রশ্ন, কটক থেকে ভুবনেশ্বরের মাঝে এতগুলো স্টেশন থাকা সত্ত্বেও কেন কোনোটিতে ট্রেন থামিয়ে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা গেল না? রেলের যুক্তি হলো, যেখানে চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে, সেখানেই ট্রেন থামানো হয়। এই ক্ষেত্রে, তাই ট্রেন ভুবনেশ্বরে দাঁড়িয়েছিল।

প্রিমিয়াম ট্রেনে কি চিকিৎসক থাকবে না?
যাত্রীদের আরও একটি বড় প্রশ্ন হলো, বন্দে ভারতের মতো একটি প্রিমিয়াম ট্রেনে কেন কোনো চিকিৎসক থাকবে না? রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “কোনো ট্রেনেই চিকিৎসক পাঠানো হয় না।” তবে, রেল আরও দাবি করেছে যে C2 কোচে কী ঘটেছিল তার সম্পূর্ণ তথ্য সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই জানা যাবে।

এই ঘটনা আবারও দূরপাল্লার ট্রেনে অসুস্থ যাত্রীদের জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। রেলের দাবি এবং যাত্রীদের অভিযোগের মধ্যে একটি সমন্বয় না হলে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকানো কঠিন হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।