সন্তানকে বাঁচাতে হনুমানের দিকে ধারাল কুঠার ছুড়লেন বাবা, সেই আঘাতেই মৃত্যু ২ বছরের শিশুর

হনুমান তাড়াতে গিয়ে কুড়ুলের লক্ষ্যভ্রষ্ট আঘাতে প্রাণ গেল এক দুধের শিশুর। মঙ্গলবার সকালে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা। ২ বছরের আরভ নামের ওই শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে, এই ঘটনা নিছকই দুর্ঘটনা নাকি পারিবারিক কলহের জেরে খুন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং অভিযোগের তীর শিশুর বাবার দিকে।

শিশু আরভের বাবা লক্ষ্মণ সিংয়ের দাবি, মঙ্গলবার সকালে তাঁর বাড়ির ভিতরে একপাল হনুমান ঢুকে পড়েছিল। তিনি বাইরে কাজ করছিলেন। এতগুলি হনুমান একসঙ্গে দেখে তিনি ঘাবড়ে যান এবং আশঙ্কা করেন যে, হনুমানগুলি তাঁর শিশু পুত্রের ক্ষতি করতে পারে। এই ভয় থেকেই তিনি হাতের কাছে রাখা কুড়ুল হনুমানের পালের দিকে ছোড়েন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কুড়ুল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘরের ভিতরে থাকা ছোট্ট আরভের গলায় লাগে।

আঘাত লাগার পর আরভের গলা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। তার কান্না শুনে বাড়ির সকলে ছুটে আসেন। রক্তে ভেসে যাওয়া আরভকে কোলে তুলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও লক্ষ্মণের আত্মীয় জগৎসিং সাইনিও এই ঘটনাকে হনুমানের দলের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে ঘটা একটি দুর্ঘটনা বলেই দাবি করেছেন।

তবে, লক্ষ্মণের শ্যালক জিতেন্দ্র সিং এই ঘটনাকে নিছকই দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। তিনি সরাসরি তাঁর জামাইবাবু লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে ভাগ্নেকে খুনের অভিযোগ তুলেছেন। জিতেন্দ্রর দাবি, এই মর্মান্তিক ঘটনা তাঁদের দিদি অনিতা এবং জামাইবাবু লক্ষ্মণের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অশান্তিরই ফল।

জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করে বলেন, “সোমবার রাতে লক্ষ্মণ অনিতাকে ঘরে আটকে মারধর করছিল। পরদিন সকালেও সেই অশান্তির রেশ ছিল। স্বামী-স্ত্রীর অশান্তির সময় আরভ তার দাদুর কোলে ছিল। লক্ষ্মণ হঠাৎই ছেলেকে কেড়ে নিয়ে কুঠার দিয়ে আঘাত করে। তাতেই মারা যায় আরভ।”

জিতেন্দ্রর এই অভিযোগের পর ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার পেছনের আসল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এটি নিছকই একটি দুর্ঘটনা, নাকি পারিবারিক কলহের চরম পরিণতি, তা জানতে তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন সবার নজর। এই ঘটনা মোরাদাবাদে গভীর শোকের পাশাপাশি এক চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনার তদন্তে পুলিশের কাছ থেকে কী তথ্য উঠে আসে, তা জানতে আগ্রহী স্থানীয় বাসিন্দারা।