কর্নেল কুরেশিকে কু-কথার পর ধর্ষিতার পরিবারের সঙ্গে ছবি, ফের বিতর্কে বিজেপি নেতা

কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে ‘সন্ত্রাসবাদীদের বোন’ বলে বিতর্কিত মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলার মধ্যেই এবার ধর্ষিতা এক কিশোরীর পরিবারের ছবি প্রকাশ্যে এনে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়লেন মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বিজয় শাহ। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্য উত্তাল হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বিজয় শাহ খাণ্ডওয়ায় গিয়েছিলেন ওই কিশোরীর পরিবারের সাথে দেখা করতে এবং তাদের হাতে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দিতে। এই সময়ে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা ওই পরিবারের ছবি তোলেন এবং পরে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
এখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, ধর্ষিতা এবং তাঁর পরিবারের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে আনা আইনবিরুদ্ধ। কিন্তু এক্ষেত্রে বিজয় শাহ, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হয়েও সেই নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকরা দাবি করছেন, নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের পরিচয় গোপন রাখার পরিবর্তে মন্ত্রী নিজেই তা প্রকাশ করে দিয়েছেন, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আইনিভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ঘটনায় মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়, এর আগেও বিজয় শাহ বিতর্কিত মন্তব্য করে শিরোনামে এসেছিলেন। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের রামকুণ্ড গ্রামে আয়োজিত একটি সভায় তিনি কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে বলেছিলেন, “ওরা (সন্ত্রাসবাদী) আমাদের বোনেদের সিঁদুর মুছেছিল। আমরা ওদেরই বোনকে পাঠিয়ে বদলা নিয়েছি। ওদের অবস্থা খারাপ করেছি। ওদের বোনকে পাঠিয়েই ওদের ধ্বংস করে দিয়েছি।” তাঁর এই মন্তব্যে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের ঝড় ওঠে এবং সুপ্রিম কোর্টও তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেয়, যার তদন্ত এখনও চলছে।
সেই সময় বিতর্কের মুখে পড়ে বিজয় শাহ তড়িঘড়ি ক্ষমা চেয়েছিলেন। তিনি সুর বদলে বলেছিলেন, “আমাদের বোন সোফিয়া জাতি ও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে ভারতের গৌরব বাড়িয়েছেন। তিনি আমাদের নিজের বোনের চেয়েও বেশি সম্মানিত। জাতির প্রতি তাঁর সেবার জন্য আমি তাঁকে স্যালুট জানাই।” তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, তাঁর মন্তব্য সমাজ ও ধর্মকে আঘাত করলে তিনি দশবার ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত।
তবে তাঁর সেই ক্ষমাপ্রার্থনা দেশের শীর্ষ আদালত গ্রাহ্য করেনি। উল্টে আদালত মন্ত্রীকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেছিল, “এ সব কুমীরের কান্না।”