মিডডে মিলে উপমা নয়, বিরিয়ানি চাই! ছোট্ট খুদের ভিডিয়ো নজরে আসতেই মেনু পাল্টে ফেলল রাজ্য সরকার!

রোজ রোজ মিড-ডে মিলে একঘেয়ে উপমা খেতে কার ভালো লাগে? ছোট্ট শঙ্কুরও ভালো লাগেনি। সে তার এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল ইনস্টাগ্রামের একটি ভিডিওতে, যা তার মা শুট করেছিলেন। ভিডিওটি এতটাই ভাইরাল হয় যে তা পৌঁছে যায় কেরল প্রশাসনের কাছে। আর তার পরই অভিনব পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার!
শঙ্কু নামের ওই খুদে তার ভিডিওতে জানিয়েছিল যে তার অঙ্গনওয়াড়িতে রোজ উপমা খেতে ভালো লাগে না, তার বদলে বিরিয়ানি খেতে বেশি ভালো লাগে। এই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার উদ্দেশ্য কী ছিল? শিশুদের পছন্দ-অপছন্দ সরকারের নজরে আনা? এই প্রসঙ্গে শঙ্কুর মা অস্বাতী অশোক জানান, একেবারেই তা নয়। শঙ্কুর বাবা কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন। ছেলের মুখে ভাতের পরপরই তিনি বিদেশে পাড়ি দেন। ছেলের স্মৃতি ও নানা টুকরো টুকরো মুহূর্ত প্রবাসী স্বামীর কাছে পৌঁছে দিতেই তিনি ইনস্টাগ্রামে ছেলের ভিডিও পোস্ট করতেন। তেমনভাবেই বিরিয়ানির ভিডিওটি শুট করা হয়েছিল। সাত পাঁচ না ভেবেই তিনি এটি পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওটি যে এত বিপুল মাত্রায় ভাইরাল হবে, তা তিনি ভাবতে পারেননি। পরে ভাইরাল হতে হতেই প্রশাসনের নজরে পড়ে এটি।
কেরলের মহিলা ও শিশুকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বীণা জর্জ সম্প্রতি ফেসবুকে বলেছিলেন যে শঙ্কুর কথা নিশ্চয়ই শোনা হবে। সেই মতোই এবার তিনি একটি মডেল ফুড মেনু বানিয়ে দিয়েছেন। সেখানেই যুক্ত হয়েছে এগ বিরিয়ানি।
মন্ত্রী বীণা জর্জ সম্প্রতি যে মডেল ফুড মেনু প্রকাশ করেছেন, সেখানে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে প্রোটিনের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও শঙ্কুর ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তার আর্জি নিশ্চয়ই শোনা হবে। তার পরেই অঙ্গনওয়াড়ির খাবারের মেনুতে এই বদল এল, যা শিশুদের জন্য এক দারুণ খবর। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, শিশুদের ছোট ছোট ইচ্ছেও যদি সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়, তাহলে তা বড় পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।