কাশ্মীরে বেড়াতে যাওয়া যাবে কি? জেনেনিন ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা কি বলছেন?

সম্প্রতি পহেলগাঁও হামলার আতঙ্ক কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে কাশ্মীরের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র গুলমার্গ। উপত্যকার পর্যটন শিল্পের জন্য এটি এক অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত। ইতিমধ্যেই ফের চালু হয়েছে এখানকার জনপ্রিয় গন্ডোলা পরিষেবা, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ পর্যটক উঠছেন। এই দৃশ্য স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলের মনে আশার আলো জাগাচ্ছে।

বর্তমানে গুলমার্গে আগত ভ্রমণকারীরা কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয়দের উষ্ণ আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অনেকেই দ্বিধা কাটিয়ে বলতে শুরু করেছেন, “ভয়ের কিছু নেই, সবাইকে কাশ্মীর ঘুরতে আসা উচিত।” পর্যটকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্য উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

পর্যটকদের এই প্রত্যাবর্তনে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পহেলগাঁও হামলার পর পর্যটকদের আনাগোনা কমে যাওয়ায় তাঁদের ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে, এখন তাঁরা আশা করছেন, খুব শিগগিরই পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াবে উপত্যকার পর্যটন শিল্প। হোটেল, রেস্তোরাঁ, হস্তশিল্পের দোকান এবং পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সকলেই আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠছেন।

অতীতেও কাশ্মীরে বিভিন্ন সময়ে অস্থিরতা দেখা গেলেও, উপত্যকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বরাবরই পর্যটকদের আকর্ষণ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও পর্যটন শিল্পের পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আতঙ্কের ছায়া সরিয়ে আবারও কাশ্মীর তার চিরাচরিত সৌন্দর্য এবং উষ্ণতা নিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। কাশ্মীর যেন ফের একবার ডাক দিয়ে বলছে—”আসুন, ভালোবাসুন, ফিরে যান মুগ্ধ হয়ে।” এই পদক্ষেপগুলো উপত্যকায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং বিশ্ব দরবারে কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ ও অতিথিপরায়ণ ভাবমূর্তি পুনর্প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।