কলকাতাবাসীরা ভাবছেন প্রবল বৃষ্টিতে বর্ষা এসে গেছে? আবহাওয়া দফতর কিন্তু বলছে অন্য কথা!

মঙ্গলবার রাতের প্রবল বৃষ্টিতে ভিজেছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। সন্ধ্যা থেকেই ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির চিত্র দেখা গেছে সর্বত্র, যা কিছুটা স্বস্তি এনেছে তীব্র গরমের পর। তবে আপাতত দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আগমন বিলম্বিত হবে বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমের গরম হাওয়ার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু থমকে যাওয়ায় নির্ধারিত ১০ জুনের পরেও বর্ষা পা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের একাংশ বলছেন, বর্ষা আসতে ১২ জুন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আপাতত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় গরম এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলিতে গরমের কারণে চরম অস্বস্তি অনুভূত হবে। এদিন সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৪৬ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় একদিকে যেমন অস্বস্তিকর গরম থাকবে, তেমনই অন্যদিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে একাধিক জেলায়। কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টাও হতে পারে। কলকাতায় আজও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায়।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গেও আজ বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে। উপরের দিকের বেশ কয়েকটি জেলাতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একটানা বৃষ্টিতে ধ্বসের আশঙ্কা বাড়ছে, একইসাথে একাধিক নদীর জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আগমনে কিছুটা দেরি হলেও প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা মাথায় রেখেই সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।