OMG! কয়েক মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড সবকিছু, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলো একাধিক বাড়ি

মাত্র কয়েক মিনিটের এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় লন্ডভণ্ড করে দিল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ শুরু হওয়া এই ঝড়ের দাপটে উড়ে গেছে বহু বাড়ির টিনের চাল, রাস্তায় উপড়ে পড়েছে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
রাতে হঠাৎ করেই তীব্র গতিতে ঝড় শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড়ের মতো পাক খেতে খেতে এটি হরিশ্চন্দ্রপুরের দিকে এগিয়ে আসে। ঝড়ের তাণ্ডবে বোরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের পেমা, রানিটোলা, মিঠাপুকুর, গিধিনপুকুর ও বাকুপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকা তছনছ হয়ে যায়। ঝড়ের পর একাধিক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতেরও বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতের ভয়াবহতার পর অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তাঁদের সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝড়ের কারণে বহু কাঁচা বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ মানুষই দিনমজুর, দিন এনে দিন খান। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের বাড়ি মেরামত করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব। মল্লিকপুর এলাকার এক বাসিন্দা মইনিউল রহমান আক্ষেপ করে বলেন, “আমি দিনমজুরের কাজ করি। ব্যাঙ্ক থেকে এক লক্ষ টাকা লোন নিয়ে বাড়ি বানিয়েছিলাম। কিন্তু রাতে ঝড়ের পর টিনের চাল উড়ে গিয়েছে, বাড়িরও ক্ষতি হয়েছে। এখন কী ভাবে লোন শোধ করব জানি না। সরকার যদি কিছু আর্থিক সাহায্য করে তাহলে খুব ভালো হয়।” তাঁর কথায় ফুটে উঠেছে অসংখ্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অসহায়তা।
মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর জেলা পরিষদের কৃষি সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম জানান, বোরুই ও কুশিদা অঞ্চলের বহু কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বিডিও, এসডিও এবং ডিএমকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও সৌমেন মন্ডল জানিয়েছেন, “ভেঙে পড়া গাছ সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তরে খবর দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত নতুন খুঁটি বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা যায়। যে সমস্ত বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে, সেই সব জায়গায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
যদিও প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বহু মানুষের জীবনে চরম অনিশ্চয়তা এনে দিয়েছে। সরকারের সাহায্য কতটা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছায় এবং তাঁরা কতটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।