পাক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ফের গ্রেপ্তার সরকারি কর্মী, জম্মু-কাশ্মীরে বরখাস্ত ৩ জন

জম্মু ও কাশ্মীর এবং রাজস্থানে পাক গুপ্তচরবৃত্তির এক বড়সড় চক্র ফাঁস হয়েছে। সরাসরি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT) এবং হিজবুল মুজাহিদিনের হয়ে কাজ করার অভিযোগে জম্মু-কাশ্মীরের তিন সরকারি কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। এই তিনজনকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এছাড়াও, রাজস্থান থেকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন আরও এক সরকারি কর্মী।

জম্মু-কাশ্মীরে সরকারি দপ্তরে জঙ্গি চর

জম্মু-কাশ্মীরের ধৃত তিন সরকারি কর্মী হলেন: মালিক ইসফাক নাসের (পুলিশ কনস্টেবল), আজাজ় আহমেদ (শিক্ষক) এবং ওয়াসিম আহমেদ খান (শ্রীনগরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট)। তদন্তকারীরা দাবি করছেন, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে উপত্যকায় জঙ্গি যোগের এক বড় সূত্র মিলেছে।

অভিযোগ, এই বরখাস্ত হওয়া সরকারি কর্মীরা সক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ পাক জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্য কাজ করছিলেন এবং সরকারি দপ্তরের স্পর্শকাতর তথ্য জঙ্গিদের পাচার করতেন। পুলিশ বাহিনী এবং সরকারি দপ্তরে এমন জঙ্গি চর থাকা জাতীয় সুরক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছে প্রশাসন।

ইসফাক নাসেরের যোগসূত্র: ২০০৭ সালে রাজ্য পুলিশে যোগ দেন ইসফাক। তাঁর ভাই আসিফ নাসের ২০১৯ সালে নিরাপত্তারক্ষীদের এনকাউন্টারে মারা যায়, যার বিরুদ্ধে অস্ত্র কালোবাজারির অভিযোগ ছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই ইসফাকের জঙ্গি যোগ সামনে আসে। অভিযোগ, তিনি লস্কর-ই-তৈবার অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং মাদক সরবরাহ করতেন। এছাড়াও পাক জঙ্গি ও LeT হ্যান্ডলারদের সুরক্ষিত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিতেন।

আজাজ় আহমেদের ভূমিকা: হিজবুল মুজাহিদিনের হয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আজাজ় আহমেদের বিরুদ্ধে। ২০১১ সালে স্কুল শিক্ষা দপ্তরে যোগদান করেন তিনি। পুঞ্চ এলাকায় জঙ্গিদের অস্ত্র ও মাদক সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ। ২০২৩ সালে POK-এর এক জঙ্গিকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পৌঁছানোর সময়ে তিনি ধরা পড়েন।

ওয়াসিম খানের ষড়যন্ত্র: শ্রীনগর মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ওয়াসিম খানের জঙ্গি যোগ সামনে আসে ২০১৮ সালে সাংবাদিক সুজাত বুখারি ও তাঁর দুই গার্ডকে হত্যার ষড়যন্ত্রে তাঁর যুক্ত থাকার ঘটনায়।
রাজস্থানে আইএসআই চর গ্রেফতার

অন্যদিকে, রাজস্থান গোয়েন্দা বিভাগের হাতে জয়সলমেরের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ-এ কর্মরত এক সরকারি কর্মীও গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাক গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ধৃতের নাম শকুর খান। সিআইডি আইজি বিষ্ণুকান্ত গুপ্ত জানিয়েছেন, বহু দিন ধরেই এই সরকারি কর্মীর উপর নজর রাখা হয়েছিল। তিনি আইএসআই-এর হয়ে কাজ করছিলেন। জ্যোতি মালহোত্রা কাণ্ডে পাক দূতাবাসের যে কর্মীদের নাম সামনে এসেছিল, তাদের সঙ্গেও শকুর খানের যোগাযোগ ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ হাতে আসতেই জয়সলমেরের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ অফিসার শকুর খানকে গ্রেফতার করা হয়।

এই গ্রেফতারিগুলো দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে এক বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং দেশের ভেতরের গুপ্তচরবৃত্তি রুখতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ঘটনার পর সরকারি দপ্তরে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে মনে করা হচ্ছে।