“মহিলা পুলিশ কর্মীদের সিঁথিতে সিঁদুর”-নোটিস পেয়ে থানায় হাজিরা দিলেন বিজেপি কর্মীরা

কর্তব্যরত মহিলা পুলিশকর্মীদের গালে ও সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। এই ঘটনায় তীব্র বিতর্কের জেরে অবশেষে মঙ্গলবার চুঁচুড়া থানায় হাজিরা দিলেন ছয় বিজেপি নেতা-কর্মী। গত ২০ মে চুঁচুড়ার পিপুলপাতি পাঁচমাথা মোড়ে বিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তাঁদের নোটিস পাঠিয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর ‘মা-বোনেদের নিরাপত্তা নেই’ মন্তব্যের পর। আলিপুরদুয়ারের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে দাবি করেন, মানুষের রাজ্য সরকারের উপর ভরসা নেই এবং বাংলায় ‘মা-বোনেদের নিরাপত্তা নেই’। এর পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেছিলেন, “একসময়ে বলতেন, চা বেচে খেতেন। তারপর বললেন, তিনি পাহারাদার। এখন বলছেন, সিঁদুর বেচবেন। এভাবে সিঁদুর বেচা যায় না।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণের প্রতিবাদেই বিজেপি চুঁচুড়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে।
সেই বিক্ষোভ চলাকালীনই অবরোধ সরাতে আসা কর্তব্যরত মহিলা পুলিশ কর্মীদের কপালে এবং গালে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনার পরের দিনই চুঁচুড়া থানার পুলিশ ছয় বিজেপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। হুগলি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ, হুগলির মহিলা মোর্চার সম্পাদক অরূপা সামন্ত-সহ মোট ছয়জনকে নোটিস ধরানো হয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁদের সবাই চুঁচুড়া থানায় গিয়ে নোটিস কমপ্লাই করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিএনএস-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজেপি কর্মীরা অবশ্য নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা সিঁদুরের অপমানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন এবং মহিলা পুলিশ কর্মীদের জোর করে সিঁদুর পরানো হয়নি। হাজিরা দেওয়ার পর সুরেশ সাউ বলেন, “থানায় হাজিরা না দিলে পুলিশ গ্রেফতার করবে বলেছিল। তাই আমরা হাজিরা দিয়েছি।” তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, “এদিকে অনুব্রত মণ্ডল পুলিশ অফিসারকে হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। আমি সিঁদুর পরাইনি কাউকে। তবুও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।”
এই ঘটনা আবারও রাজনৈতিক বিক্ষোভের নামে বিতর্কিত আচরণের বিষয়টি সামনে আনল এবং শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে চাপানউতোর বাড়ল। এই মামলার ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।