পহেলগাঁও-কাণ্ডের পর কাশ্মীরে যাচ্ছেন মোদী, দুই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হবে দেশ

বহু প্রতীক্ষিত চেনাব রেল সেতুর উদ্বোধন এবং কাটরা-শ্রীনগর বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সূচনা করতে আজ কাশ্মীরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পহেলগাঁও কাণ্ডের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কাশ্মীর সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় এক নতুন উন্মাদনা ও আশার সঞ্চার হয়েছে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ এই রেল সেতু, যা চেনাব নদীর উপর অবস্থিত, আজ জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করবেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে, কাটরা স্টেডিয়ামে একটি জনসভাতেও ভাষণ দেবেন তিনি। এই দুটি প্রকল্পকেই কাশ্মীরের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৪৩,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সুবিশাল প্রকল্পকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রায় ৪২ বছর সময় লেগেছে। এটি শুধু একটি সেতু নয়, এটি ভারতের প্রকৌশলগত দক্ষতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১৩১৫ মিটার দীর্ঘ এবং ৩৫৯ মিটার উঁচু এই সেতুটি ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের চেয়েও ৩৫ মিটার বেশি উঁচু। এর নির্মাণশৈলী এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি -১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে, অর্থাৎ জম্মু ও কাশ্মীরের চরম আবহাওয়া এই সেতুর কার্যকারিতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

কেন্দ্রীয় মহাকাশ মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৬ জুন বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল সেতু, চেনাব সেতু উদ্বোধন করবেন। সেতুটি জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেলওয়ে লিঙ্ক (USBRL) প্রকল্পের অংশ।” তিনি আরও লেখেন, “ইতিহাস তৈরি হচ্ছে… আর মাত্র ৩ দিন বাকি! বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল সেতু, শক্তিশালী চেনাব সেতু, জম্মু ও কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে আছে। এটি উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেলওয়ে লিঙ্কের অংশ। প্রকৃতির কঠিনতম পরীক্ষা সহ্য করার জন্য তৈরি।”

চেনাব সেতুর উদ্বোধনের পাশাপাশি কাটরা-শ্রীনগর রুটে বন্দে ভারত ট্রেনের সূচনা কাশ্মীরের সংযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই ট্রেনটি শুধু দেশের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে কাশ্মীরের সব আবহাওয়ায় সংযোগই স্থাপন করবে না, বরং এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চলাচলকেও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। এর ফলে কাশ্মীর অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে এর যোগাযোগ আরও নিবিড় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জম্মু ও কাশ্মীর সফর স্থগিত করা হয়েছিল। আজকের এই সফর এবং দুটি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন উপত্যকায় এক নতুন বার্তা বহন করছে, যা শান্তি, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।