“বাক স্বাধীনতা আছে মানেই, কোনও ধর্মকে অপমান করা যায় না”-শর্মিষ্ঠার জামিন নাকচ হাইকোর্টে

পহেলগাঁও হামলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে বিতর্কিত পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আইনের ছাত্রী শর্মিষ্ঠা পানোলির অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন মঙ্গলবার (৩ জুন, ২০২৫) কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, বাক স্বাধীনতা মানেই কোনো ধর্মকে আঘাত করা নয়। বাক স্বাধীনতা কোনোভাবেই ধর্মকে আঘাত করার অনুমতি দেয় না।

বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত কড়া। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের মানুষের একাংশের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। আমাদের বাক স্বাধীনতা রয়েছে। তাই বলে আপনি অন্যের অনুভূতিতে আঘাত করতে পারেন না। আমাদের দেশ বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ। সেটা মাথায় রাখতে হবে।”

বিচারপতি জানান, কেস ডায়েরি না দেখে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। আগামী ৫ জুন, বৃহস্পতিবার অবকাশকালীন বেঞ্চে রাজ্যকে কেস ডায়েরি পেশ করতে বলা হয়েছে। সেদিনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

অভিযোগ, গত ১৪ মে (২০২৫) শর্মিষ্ঠা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত কন্টেন্ট পোস্ট করেন, যা একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছিল এবং কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপর ১৫ মে তাঁর বিরুদ্ধে গার্ডেনরিচ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কলকাতায় আনন্দপুরে তাঁর বাড়িতে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি বেপাত্তা হয়ে যান। পরে দিল্লি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও শর্মিষ্ঠা কলকাতার বাসিন্দা, তিনি পুনেতে আইন নিয়ে লেখাপড়া করছেন।

গ্রেফতারির পর গত শনিবার (৩১ মে, ২০২৫) শর্মিষ্ঠাকে আদালতে পেশ করা হয় এবং তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, যে কন্টেন্ট নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, সেটি শর্মিষ্ঠা মুছে দিয়েছিলেন এবং ক্ষমাও চেয়েছিলেন।

শর্মিষ্ঠার দাবি ছিল, তিনি পাকিস্তানের মানুষকে জবাব দিতেই এই ভিডিও তৈরি করেছেন। তবে তার এই ভিডিওর তীব্র বিরোধিতা করেন দেশের একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক। মিম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করেন, এমন অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘৃণা ছড়াচ্ছেন, তাদের যেন নজরদারিতে রাখা হয়।

এই ঘটনা আবারও বাক স্বাধীনতা এবং সামাজিক মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আদালতের এই রায় সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।