লিচু ফিকে, গরমে হিট তালের শাঁস! ব্যবসাদাররা কত কামাচ্ছে জানেন? শুনলে আপনিও চমকে যাবেন

কালের স্রোতে কৃষ্ণগঞ্জের পথে প্রান্তরের তালগাছেরা হয়তো কিছুটা মলিন হয়েছে, তবে তাদের উত্তরাধিকার যেন আরও মিষ্টি হয়ে ফিরে এসেছে! এখন অনেকেই তালের আঁটি পুঁতে সেই সোনালী দিন ফিরিয়ে আনার চেষ্টায়। আর এরই মাঝে, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের হাট-বাজারে তালের শাঁসের চাহিদা তুঙ্গে। গ্রীষ্মের এই মরশুমি ফল গ্রামীণ অর্থনীতির অক্সিজেন হয়ে উঠেছে যেন।

নদিয়া জেলার আনাচে কানাচে এখন তালের শাঁসের জয়জয়কার। কৃষ্ণগঞ্জ থেকে মাজদিয়া—বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রেতারা পসরা সাজিয়ে বসেছেন সুস্বাদু তালের শাঁস নিয়ে। ছোট থেকে বড়, সকলের কাছেই এই ফল দারুণ জনপ্রিয়।

শুধু স্বাদ নয়, তালের শাঁসে রয়েছে গুণও। আর শুধু শাঁস কেন, তালের রস, গুড়, পাকা তাল—সবকিছুই খাদ্যরসিকদের মন জয় করে নেয়। তবে এই মরসুমে, যখন লিচুর ফলন কিছুটা কম, তখন তালের শাঁসের কদর যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের সামনে, রাস্তার মোড়ে, পৌরসভার ধারে—সর্বত্র চোখে পড়বে বিক্রেতাদের সেই চেনা ছবি—ধারালো ‘দা’ দিয়ে তাল কেটে শাঁস বের করছেন তাঁরা।

মাথাভাঙ্গা ব্রিজের পাশে দেখা মিলল এমনই এক বিক্রেতা, নারায়ণ ঘোষের। জানালেন, এই মরসুমে তাল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করাই তাঁর উপার্জনের প্রধান উৎস। অন্য সময় তিনি অন্য কাজ করেন। ভরত বিশ্বাসের কথায়, ক্রেতাদেরও নানা পছন্দ—কেউ নরম শাঁস ভালোবাসেন, তো কেউ একটু শক্ত। প্রতিদিন প্রায় ৩০-৪০ কাঁদি তাল বিক্রি হয় তাঁর। এভাবেই তালের মরসুম তাঁর সংসারে আনে আর্থিক সচ্ছলতা।

চারটি তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। গরমে এর চাহিদা একটু অন্যরকম। কৃষ্ণপুর, পাবাখালি, শিব নিবাস, মাজদিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই তালশাঁস আনা হয় বিক্রির জন্য। শুধু তাই নয়, একটি তালগাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায়। যারা এই গাছ কিনছেন, তাঁরা তাল পেড়ে বাজারে বিক্রি করে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন। তাই বলাই যায়, তালগাছ অর্থনৈতিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

কৃষ্ণগঞ্জের বাতাসে এখন তালের মিষ্টি গন্ধ, আর মানুষের মুখে তৃপ্তির হাসি। লিচুর অভাব যেন ঘুচিয়ে দিচ্ছে এই তালশাঁস—এক মরসুমি ফল যা শুধু রসনাতৃপ্তিই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাকেও সচল রাখছে। কালের ফেরে তালগাছ কিছুটা ফিকে হলেও, তালের শাঁস কৃষ্ণগঞ্জের জীবনে এনেছে এক নতুন সোনালী সকাল।