খেলার ছলে চিরঘুম! জলভর্তি গামলাই কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ, হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের

হরিয়ানার সোনিপেটে নেমে এল বিষাদের ছায়া। খেলার আনন্দ নিমেষে পরিণত হল গভীর শোকে। দাদার সাথে খুনসুটি করতে গিয়ে জল ভর্তি গামলায় পড়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হল একটি এক বছর বয়সী শিশুর। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সোমবার সোনিপেটে তাদের ভাড়া বাড়িতে ঘটে। তবে, মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগের তীর হাসপাতালের দিকে—তাদের গাফিলতিতেই নাকি প্রাণ গেল ফুলের মতো শিশুটির।

মধ্যপ্রদেশ থেকে কর্মসূত্রে হরিয়ানায় এসে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন শিশুটির পরিযায়ী শ্রমিক বাবা-মা। সোমবার, অন্যান্য দিনের মতোই, একরত্তি তার দাদার সাথে খেলায় মত্ত ছিল। কে জানত, সেই হাসি-খুশির মুহূর্তই তাদের জীবনে এমন কালো মেঘ ডেকে আনবে!

দুর্ঘটনার পর নিস্তেজ শিশুটিকে তড়িঘড়ি সোনিপেটের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান অসহায় বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভেন্টিলেশন পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। একটি স্ট্রেচারে ফেলে রাখা হয় তাঁদের আদরের সন্তানকে। ভেন্টিলেশন পরিষেবা শুরু হওয়ার আগেই চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তবে, হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের বয়ান ভিন্ন। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টা পর শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ততক্ষণে যা হওয়ার, হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকদের আর কিছুই করার ছিল না বলে জানান তাঁরা। যদিও, এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে রোহতকের সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এক বছরের ছোট্ট প্রাণ, যে সবেমাত্র পৃথিবীর আলো দেখতে শুরু করেছিল, এক লহমায় সব শেষ। দাদার সাথে খেলার স্মৃতি, বাবা-মায়ের স্বপ্ন—সব যেন থমকে গেল জল ভর্তি একটি গামলার কাছে। পরিযায়ী শ্রমিক বাবা-মায়ের চোখের জল আর চাপা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে সোনিপেটের বাতাস। একদিকে খেলার নির্মম পরিণতি, অন্যদিকে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ—এই মর্মান্তিক ঘটনাটি যেন আরও একবার আমাদের সমাজের সংবেদনশীলতা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার দুর্বল দিকগুলিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল। তদন্তের পর হয়তো সত্যিটা সামনে আসবে, কিন্তু একটি নিষ্পাপ প্রাণের অকালমৃত্যুর ক্ষত কি কখনো সারবে?