SPORTS: কোহলির জন্য ট্রফি জিততে চায় বেঙ্গালুরু, অপরদিকে চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন শ্রেয়াস

আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং বিরাট কোহলি যেন সমার্থক। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির শুরু থেকেই এই ভারতীয় কিংবদন্তি জড়িত থাকলেও, এখনও পর্যন্ত শিরোপার স্বাদ পায়নি আরসিবি। যেখানে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স রোহিত শর্মার নেতৃত্বে পাঁচবার এবং চেন্নাই সুপার কিংস মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত ধরে পাঁচটি শিরোপা জিতেছে, সেখানে কোহলির শিরোপাখরা এখনও কাটেনি।
এবার আইপিএলের অষ্টাদশ আসরে এসে আবারও শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বেঙ্গালুরু। দলের অধিনায়ক রজত পাতিদার জানিয়েছেন, তারা কোহলির জন্যই এই ট্রফি জিততে চান। অন্যদিকে, ফাইনালের আগে পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ারের দাবি, দলকে ফাইনালে তুলে তিনি মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন!
কোহলির জন্য শিরোপা চান রজত পাতিদার
আরসিবি এর আগে তিনবার আইপিএল ফাইনাল খেললেও, কোনো বারই জিততে পারেনি। ২০০৯ সালে ডেকান চার্জার্সের কাছে, ২০১১ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে এবং ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে হেরেছিল তারা। ফাইনালের আগে অধিনায়ক পাতিদার বলেন, “কোহলির জন্যই ট্রফি চাই। এত বছর ধরে বেঙ্গালুরুকে অনেক কিছু দিয়েছে ও। আমরা ট্রফি জেতার জন্য নিজেদের সেরাটা দেব। ফাইনাল খেলব এটা ভেবে মঙ্গলবার (৪ জুন, ২০২৫) নামব না। নিজেদের সেরা ক্রিকেটটাই উপহার দেব।”
আহমেদাবাদে খেলা হলেও কোহলির জন্যই যে তারা প্রচুর সমর্থন পাবেন, তা মেনে নিয়েছেন পাতিদার। ইতোমধ্যে অনেক ভক্ত বেঙ্গালুরু থেকে খেলা দেখতে এসেছেন। পাতিদারের কথায়, “যেখানেই যাই না কেন সেটাই আমাদের ঘরের মাঠ। যে ভাবে সমর্থকেরা আমাদের পাশে রয়েছেন তার প্রশংসা কোনো ভাবেই করা যাবে না।”
ফাইনালে দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার টিম ডেভিডের খেলা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। শেষ দুটি ম্যাচে তিনি খেলেননি। এই বিষয়ে পাতিদার বলেন, “এখনও পর্যন্ত ডেভিডকে নিয়ে কিছু জানি না। চিকিৎসকেরা রয়েছেন। আশা করি শিগগিরই জানতে পারব ও খেলতে পারবে কি না।”
শ্রেয়াসের ঘুমহীন রাত ও সেরা ইনিংসের গল্প
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ারের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। গত রোববার (১ জুন, ২০২৫) তাদের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ শেষ হতে হতে মধ্যরাত পেরিয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠেই শ্রেয়াসকে সাংবাদিক সম্মেলনে চলে আসতে হয়েছে। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “আমি সেভাবে ঘুমোতেই পারিনি। মেরেকেটে চার ঘণ্টা ঘুমিয়ে এখানে চলে এসেছি। ম্যাচের পর হোটেলে ফিরেছিলাম। ঘুম থেকে উঠেই জানতে পারলাম সাংবাদিক বৈঠকে আসতে হবে।”
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে খেলা ইনিংসটিকে নিজের সেরা ইনিংস বলে অভিহিত করেছেন শ্রেয়াস। তার কথায়, “চাপের মুখে দলকে জেতানোই আমার কাছে সবচেয়ে সেরা অনুভূতি। তবে এই ইনিংসটাকে নিজের সেরা ইনিংস বলতে দ্বিধা নেই। আমি পরিস্থিতি বিচার করে খেলি। খুব বেশি ভাবি না। রান তাড়া করার সময় আগে রান রেট দেখি। তারপর উইকেট এবং বোলার বিচার করে শট খেলি।”
দু’জন অধিনায়কের ভিন্ন মানসিকতা এবং দলের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি এবারের ফাইনালকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের জন্য, যেখানে আরসিবি কি পারবে কোহলির শিরোপাখরা ঘোচাতে, নাকি পাঞ্জাব কিংস নতুন ইতিহাস রচনা করবে?