রাতভর হুল্লোড় আর না, নৈশপার্টি এড়িয়ে চলেন করিনা! সইফের উপর হামলার পর ‘বেবো’ কি সত্যিই বদলে গেলেন?

বি-টাউনের ঝলমলে আলোয় হঠাৎ যেন এক বিষণ্ণ সুর। সইফ আলি খানের উপর অপ্রত্যাশিত হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই, পতৌদি পরিবারের অন্দরমহলের এক নীরব পরিবর্তন প্রকাশ্যে এল। প্রথমে রটেছিল, যেদিন নবাব আক্রান্ত হন, সেদিন নাকি মিসেস খান মেতেছিলেন নৈশপার্টির রঙিন নেশায়। যদিও, তদন্তের রিপোর্ট সেই জল্পনায় জল ঢেলে দেয়। জানা যায়, সেদিন সইফ এবং করিনা ছিলেন একই ছাদের নীচে। তবুও, স্বামীর উপর আঘাত যেন কোথাও না কোথাও ছুঁয়ে গেছে বেবোর জীবনযাত্রাকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে করিনা কাপুরের অন্য এক রূপ দেখল বলিউড। চিরচেনা গ্ল্যামার আর পার্টি মুডের বাইরে, এক শান্ত, গোছানো জীবন যাপন করছেন তিনি। অকপটে জানালেন, “বর্তমানে আমি দেখি একের পর এক অভিনেতা সাফল্যের পিছনে দৌড়াচ্ছে। আমি মনে করি সৌভাগ্যক্রমে আমি এই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন আমার নির্দিষ্ট সময়সূচী রয়েছে। আমি সন্ধে ছ’টার সময় রাতের খাবার খেয়ে ফেলি এবং রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ ঘুমিয়ে পড়ি। কারণ আমি খুব সকালে উঠে ব্যায়াম করি। এখন খুব একটা পার্টিতেও যাই না। আমার বন্ধুরাও এখন আমার কাছ থেকে খুব একটা বেশি কিছু আশা করে না। তাঁরা জানে যে আমি আমার বাড়িতে খুব ভলিউম দিয়ে টিভি দেখছি।”
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই আকস্মিক পালাবদলের কারণ কী? করিনার উত্তর স্পষ্ট – সুস্থ জীবনযাপন। তবে, এই উত্তরের আড়ালে কি কোথাও লুকিয়ে আছে সইফের উপর সেই অপ্রত্যাশিত আঘাতের নীরব প্রতিক্রিয়া? অভিনেত্রীর কথায় সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। হামলার পর থেকে নাকি পাতৌদি ম্যানশনের দৈনন্দিন রুটিনেও এসেছে পরিবর্তন। পাপারাজ্জিদের ফ্ল্যাশবাল্বের দৌড় থেকে দুই পুত্র তৈমুর ও জেহকে আরও বেশি করে আড়াল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেফিনা। শুধু তাই নয়, বেড়েছে তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও।
একসময়ের পার্টি কুইন করিনার এই ‘নিস্তব্ধ বিপ্লব’ যেন বলছে, খ্যাতির ঝলকানির চেয়েও দামি হল আপনজনদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা। গ্ল্যামারের মোড়ক ছেড়ে, এখন তিনি ডুব দিয়েছেন এক অন্য রুটিনে – যেখানে সন্ধ্যা নামে তাড়াতাড়ি, আর ভোরের আলো ফোটে শরীরচর্চার হাত ধরে।
বলিউডের এই ‘বেবো’ কি তবে সত্যিই বদলে গেলেন? সময়ই এর উত্তর দেবে। তবে আপাতত, সইফের উপর হামলার ছায়া যে পতৌদি পরিবারের জীবনযাত্রায় এক গভীর পরিবর্তন এনেছে, তা বলাই বাহুল্য।