মায়ের শরীরের ‘ভূত’ তাড়াতে এসে নাবালিকাকে অপহরণ তান্ত্রিকের! থানায় অভিযোগ দায়ের পরিবারের

বাড়িতে অসুস্থ স্ত্রী’র উপর ‘অশুভ আত্মা’ ভর করেছে – এমন বিশ্বাস থেকে শুরু হয়েছিল এক তন্ত্রসাধনা। আর সেই তন্ত্রমন্ত্রের আড়ালেই এক জঘন্য অপরাধের ঘটনা ঘটল উত্তর প্রদেশের গাজিপুরে। এক ৬০ বছর বয়সী তান্ত্রিকের বিরুদ্ধে অসুস্থ মহিলার ১৩ বছরের নাবালিকা কন্যাকে অপহরণ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

তান্ত্রিকের আগমন ও বিশ্বাস ভঙ্গের কাহিনি
নাবালিকার বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। প্রতিবেশীরা তাকে জানান যে, তার স্ত্রীর উপর ভূতের প্রভাব পড়েছে, যা তাড়ানোর জন্য তান্ত্রিকের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। এরপর তিনি ৬০ বছর বয়সী দয়ারাম নামে এক তান্ত্রিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দয়ারাম তাদের বাড়িতে এসে বেশ কয়েকবার পূজার আয়োজন করেন।

নাবালিকার পরিবারের দাবি, পূজা করতে আসার সুবাদে তান্ত্রিক দয়ারাম তাদের বাড়িতে নাবালিকাকে দেখেন। গত ১৫ মে সন্ধ্যায় দয়ারাম যখন পূজার জন্য এসেছিলেন, তখন বাড়িতে শুধু অসুস্থ মহিলা ও তার নাবালিকা মেয়েই ছিল। পূজার পর মেয়েকে নিয়ে দয়ারাম পালিয়েছেন বলে নাবালিকার বাবা অভিযোগ করেছেন।

নিখোঁজ ও পুলিশের তদন্ত
নাবালিকার বাবা জানান, সেই সন্ধ্যায় তান্ত্রিকের পূজা শেষ হওয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে পাননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তিনি অবশেষে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ, দয়ারাম তাদের মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে পালিয়েছেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার পর থেকে তান্ত্রিক দয়ারামও বাড়ি ফেরেননি এবং তারও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। দয়ারামের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩৭(২) ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ এবং তার খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু হয়েছে।

এই ঘটনা একদিকে যেমন সমাজে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস এবং তার অপব্যবহারের ভয়াবহ দিকটি তুলে ধরেছে, তেমনই এক নির্লজ্জ অপরাধীর মুখোশ উন্মোচন করেছে। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নাবালিকার সন্ধান পাওয়া এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে, এমনটাই আশা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।