বাংলায় COVID আক্রান্তের মৃত্যু, ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার পার, পরিস্থিতি কেমন?

ভারতে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা আবারও বাড়ছে, যা মহামারীর এক নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নীরবে ছড়িয়ে পড়া এই নতুন ঢেউয়ে কেবল আক্রান্তের সংখ্যাই নয়, বদলে যাচ্ছে ভাইরাসের উপসর্গও। পুরনো পরিচিতির বাইরে নতুন এই রূপ জনসাধারণের মনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের (MOHFW) তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারতে মোট ৪,০২৬ জন সক্রিয় কোভিড-১৯ রোগী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে উদ্বেগজনক খবর হলো, পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে দেশের চারটি রাজ্যে: কেরালা, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গ।

উপসর্গের বদল, নতুন বিপদ
এই নতুন ঢেউয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উপসর্গের পরিবর্তন। অধিকাংশ আক্রান্তের ক্ষেত্রেই জ্বর বা সর্দি-কাশির চিরাচরিত লক্ষণের বদলে দেখা যাচ্ছে গলা ব্যথা, গলা বসে যাওয়া এবং কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পেট ব্যথা এবং তীব্র পাতলা পায়খানা (ডায়ারিয়া)। এই উপসর্গগুলি প্রায়শই সাধারণ ফ্লু বা পেটের সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে, যা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটাতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলছেন।

পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি
পশ্চিমবঙ্গও এই নতুন ঢেউ থেকে মুক্ত নয়। রাজ্যে বর্তমানে ৩৭২ জন সক্রিয় কোভিড-১৯ রোগী রয়েছেন, যা সক্রিয় রোগীর সংখ্যার নিরিখে দেশকে পঞ্চম স্থানে রেখেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুঃখজনকভাবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ১১ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন, সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি রাজ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ।

জাতীয় চিত্র: কেরালা শীর্ষে
সারা দেশের মধ্যে কেরালাতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১,৪১৬ জন। মহারাষ্ট্র ৪৯৪ জন সক্রিয় রোগী নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, এবং গুজরাট ৩৯৭ জন রোগী নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। দেশের রাজধানী দিল্লিও সক্রিয় রোগীর সংখ্যায় বৃদ্ধি দেখছে, সেখানে বর্তমানে ৩৯৩ জন সক্রিয় রোগী রয়েছেন।

আপনার করণীয়
কোভিড-১৯ সংক্রমণের এই নতুন বৃদ্ধি এবং উপসর্গের পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয় যে মহামারী এখনও শেষ হয়ে যায়নি। যদিও তীব্রতা আগের মতো না হলেও, সংক্রমণের এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মেনে চলার উপর জোর দিচ্ছেন:

নতুন উপসর্গের প্রতি সতর্ক থাকুন, বিশেষ করে গলা সংক্রান্ত সমস্যা এবং পেটের অসুখ।
যদি কোনো কোভিড-সদৃশ উপসর্গ দেখা যায় তবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করুন।
সঠিক রোগ নির্ণয় ও নির্দেশনার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
হাতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং ভিড়যুক্ত ইনডোর পরিবেশে, বিশেষ করে দুর্বল ব্যক্তিরা মাস্ক পরার কথা বিবেচনা করুন।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে আমাদের সকলেরই তথ্য সচেতন এবং সক্রিয় থাকা জরুরি।