স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখতে নজরে রাখুন ৯ বিষয়, জেনেনিন কী কী?

স্মার্টফোন এখন কেবল একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অনেকটা ‘দ্বিতীয় মানিব্যাগ’-এর মতো। ব্যাংকের লেনদেন থেকে শুরু করে শপিংয়ের বিল, ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য – সবকিছুই আমরা এখন ফোনে রাখছি। আর এই কারণেই স্মার্টফোনকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসাবধানতাও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে যাওয়া বা আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

চলুন জেনে নিই, আপনার স্মার্টফোনকে সুরক্ষিত রাখতে যে ৯টি বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন:

১. স্ক্রিন লক আবশ্যিক: আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিন সবসময় লক করে রাখুন। এর জন্য পাসওয়ার্ড, পিন, প্যাটার্ন লক অথবা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করুন। এটি আপনার ফোনের প্রাথমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

২. জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন: পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সময়ে ‘১২৩৪৫…’ অথবা জন্মতারিখের মতো সাধারণ কম্বিনেশন ব্যবহার করবেন না। একটু জটিল পাসওয়ার্ড বেছে নিন, সম্ভব হলে সংখ্যার সঙ্গে বিশেষ চিহ্ন (যেমন—* বা $ বা @) ব্যবহার করুন।

৩. অ্যাপস আলাদাভাবে লক করুন: জরুরি অ্যাপ যেমন কনট্যাক্ট, মেসেজ, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সাধারণ অ্যাপ এবং ব্যাঙ্কিং অ্যাপগুলো প্রতিটি আলাদাভাবে লক করে রাখুন। এর ফলে কেউ আপনার ফোন আনলক করতে পারলেও, গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপগুলোতে প্রবেশ করতে পারবে না।

৪. ‘ট্রাস্টেড’ অ্যাপ ডাউনলোড করুন: জরুরি প্রয়োজনে অনেক অ্যাপ আমরা ডাউনলোড করি। অ্যাপ ডাউনলোডের সময়ে অবশ্যই দেখে নিন সেটি ‘ট্রাস্টেড’ উৎস থেকে আসছে কিনা (যেমন Google Play Store বা Apple App Store)। একই সাথে রিভিউ অপশনে গিয়ে সেটির রেটিং কেমন, তাও যাচাই করে নিন।

৫. অ্যাকসেস পারমিশন বুঝে দিন: অ্যাপ ডাউনলোডের সময়ে লক্ষ্য করুন, সেটি আপনার মোবাইলের কোন কোন তথ্যের অ্যাকসেস চাইছে। যেমন, কোনো পেমেন্ট অ্যাপ ডাউনলোড করলে সেটির কিন্তু আপনার ক্যামেরার অ্যাকসেস চাওয়ার কথা নয়। তাই খেয়াল রাখুন, বুঝে অ্যাকসেস পারমিশন দিন। অপ্রয়োজনীয় পারমিশন দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৬. সফটওয়্যার ও অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করুন: আপনার মোবাইলের সফটওয়্যার এবং প্রতিটি অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করুন। আপডেশনের সাথে সাথে সিকিউরিটি ফিচারসও আপডেটেড হয়, যা নতুন হুমকির মোকাবিলায় সাহায্য করে।

৭. লাইসেন্সড অ্যান্টিভাইরাস/সিকিউরিটি সফটওয়্যার ব্যবহার করুন: মোবাইলে কোনো লাইসেন্সড সিকিউরিটি সফটওয়্যার অবশ্যই ইনস্টল করে রাখুন। যাতে অনলাইনে কোনো কাজ করতে গিয়ে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস অ্যাটাক প্রাথমিকভাবে আটকানো যায়।

৮. পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্কতা: পাবলিক ওয়াই-ফাই কোনো ভাবেই ব্যবহার করবেন না, যদি না একান্ত প্রয়োজন হয়। অন্তত ব্যবহার করলেও নিশ্চিত হোন যে, সেই পাবলিক ওয়াই-ফাই থেকে আপনি ব্যাঙ্কিং বা পেমেন্ট সংক্রান্ত কোনো কাজ করছেন না। তাতে আপনার মোবাইলের গোপন তথ্য চুরি যাওয়ার এবং অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।

৯. ব্লুটুথ অপশন বন্ধ রাখুন: যখন ব্লুটুথ ব্যবহার করছেন না, তখন অপশনটি বন্ধ করে রাখুন। ব্লুটুথ সেটিংয়ে গিয়ে ‘নন-ডিসকভারেবল’ মোড চালু করুন, যাতে হ্যাকার বা প্রতারকদের কাছে দূর থেকেই আপনার মোবাইলটির অ্যাকসেস পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।

এই বিষয়গুলি মেনে চললে আপনার স্মার্টফোন এবং তাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। প্রযুক্তির এই যুগে সামান্য সচেতনতাই আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।