হুমকি দেওয়ার ১২ ঘন্টার পরই সুর বদল হুমায়ুনের, প্রত্যাহার করার নির্দেশ তৃণমূলের থেকে

পুলিশকে হুমকি দেওয়ার ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ালেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানালেন, পুলিশকে নিয়ে রবিবার তাঁর করা মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন, বহরমপুর পুলিশ জেলার সুপারের সঙ্গে এ নিয়ে তাঁর বৈঠক হয়েছে।
তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে হুমায়ুনকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। তারপরেই তিনি এদিন বহরমপুরের পুলিশ সুপারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। উল্লেখ্য, রবিবার হুমায়ুন ভরতপুরে একটি সভায় গিয়ে লালগোলা, ভরতপুর, বড়ঞা থানার পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগ করেছিলেন।
রবিবারের বিতর্কিত মন্তব্য:
রবিবার হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, “লালগোলা, ভরতপুর, বড়ঞা থানার পুলিশ সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করছে। আমি বিরোধী দলে থাকলে এই সব পুলিশকে শায়েস্তা করতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগত না। আমার নয় হাত-পা বাঁধা আছে। ডিজিটাল মিডিয়া আপনাদের ভয় কীসের, আপনারা কী করছেন? সাহসিকতার সঙ্গে এই সব খবর করুন। পুলিশ কিছু করতে এলে আমি বুঝে নেব।”
সুর নরমের কারণ:
এদিন পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর হুমায়ুন বলেন, “আমি আমার মন্তব্য থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। উনি বলেছেন পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ থাকলে আগে ওঁর নজরে আনতে। উনি ব্যবস্থা না-নিলে আমি সংবাদ মাধ্যম বা অন্য যেখানে খুশি জানাতে পারি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পুলিশ বিভাগ আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তর্গত। পুলিশ কোনো ভুল কাজ করলে, সেটা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তিতে আঘাত করে। তাই তাঁর দলের বিধায়ক হয়ে, আমি পুলিশের কাজের প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু, এখন আমি আমার গতকালের সব বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।”
দলীয় অস্বস্তি ও পূর্বের ঘটনা:
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে অনুব্রত মণ্ডল এবং বোলপুর থানার আইসি-র ফোনের অডিয়ো রেকর্ড ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে অনুব্রতকে আইসি-র মা ও স্ত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতে শোনা যায়। যার পরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে ক্ষমা চান বীরভূমের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতা। এমনকি পুলিশে অনুব্রতর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুনের পুলিশকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ফের অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল। এর আগেও একাধিকবার হুমায়ুন কবীরকে দলবিরোধী ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি শোকজও করা হয় ভরতপুরের বিধায়ককে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে তৃণমূল থেকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ডও হয়েছিলেন। এত কিছুর পরেও হুমায়ুন ও তাঁর বেফাঁস মন্তব্যের পালা বন্ধ হয়নি, যা এবার দলের কড়া নির্দেশে সাময়িকভাবে থামল বলে মনে করা হচ্ছে।