কুলারের হাওয়া কে খাবে? ঠান্ডা হাওয়ার লোভে রণক্ষেত্র বিয়ের আসর

উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে এক বিয়ের অনুষ্ঠান মুহূর্তে বদলে গেল যুদ্ধক্ষেত্রে। আর এই তুলকালাম কাণ্ডের নেপথ্যে? একটি সামান্য কুলার! হ্যাঁ, কুলারের ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগানো নিয়ে শুরু হওয়া বচসা নিমেষে কেড়ে নিল উৎসবের রং। গত ২৮ মে ঝাঁসির নন্দনপুরা এলাকায় ঘটে এই অভাবনীয় ঘটনা। গনেশী রাইকোয়ারের কন্যা স্বপ্নার সঙ্গে আবাস বিকাশ এলাকার বাসিন্দা সোনুর যখন শুভ পরিণয় হচ্ছিল, তখন সবকিছুই ছিল মনোরম। মালাবদলের পর অতিথিরা যখন ভোজনে ব্যস্ত, বর-কনে তখন মঞ্চে আসীন। তাদের আরামের জন্য কনের পাশেই রাখা ছিল একটি কুলার।
কিন্তু সেই কুলারই হয়ে দাঁড়াল অশান্তির কেন্দ্রবিন্দু। অভিযোগ, বরপক্ষের কয়েকজন সদস্য আচমকাই কুলারের সামনে বসে পড়েন। ফলে বর-কনের দিকে আর ঠান্ডা হাওয়া পৌঁছাচ্ছিল না। কনের আত্মীয়রা তাদের একটু সরে বসতে অনুরোধ করলে মুহূর্তেই তেতে ওঠে পরিস্থিতি। প্রথমে কথা কাটাকাটি, তারপর শুরু হয় চেয়ার ছোড়াছুঁড়ি। বিয়েবাড়ি যেন এক রণভূমিতে পরিণত হল। স্থানীয় কিছু যুবকও সেই গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়ে এবং বরপক্ষের লোকজনকে মারধর শুরু করে দেয়। আতঙ্কে অতিথিরা খাবার ফেলে যে যেদিকে পারে পালাতে শুরু করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, তবে ততক্ষণে বিয়ের আনন্দের বারোটা বেজে গিয়েছে।
পরের দিন, ২৯ মে, কনের বিদায়ের পর তার পরিবার ঝাঁসি এসএসপির অফিসে হাজির হয় ভিডিও প্রমাণ সহ অভিযোগ জানাতে। কনের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার আগে পুলিশকে জানানো হলেও তারা কোনওরকম পদক্ষেপ নেয়নি। কনের ভাই মোহিত জানান, “আমরা খাবার পরিবেশন করছিলাম, তখন কয়েকজন ছেলে কুলারের সামনে বসে পড়ে। আমরা শুধু তাদের একটু সরতে বলেছিলাম যাতে বর-কনে একটু হাওয়া পায়। কিন্তু তারা সঙ্গে সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে দেয়।” সার্কেল অফিসার রামবীর সিং এই বিষয়ে বলেন, “একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একটি বিয়েবাড়িতে মারামারি হতে দেখা যাচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”
একটি সামান্য কুলার একটি সুন্দর বিয়ের অনুষ্ঠানকে কিভাবে বিশৃঙ্খলার আঁতুড়ঘরে পরিণত করতে পারে, ঝাঁসির এই ঘটনা যেন তারই জ্বলন্ত উদাহরণ। ঠান্ডা হাওয়ার লোভে উষ্ণ হয়ে ওঠা একটি মুহূর্ত কেড়ে নিল একরাশ খুশি।