কুম্ভমেলার দিনক্ষণ ঘোষণা! নাসিকে ২১ মাস ধরে চলবে মেলা, জানালেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ

সময়টা ২০২৭। ভক্তকুলের অপেক্ষার অবসান। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ রবিবার ঘোষণা করলেন, নাসিক এবং ত্র্যম্বকেশ্বরে ১২ বছর পর ফের বসতে চলেছে সিংহস্থ কুম্ভ মেলা। আর এই মেলা চলবে দীর্ঘ ২১ মাস ধরে! ২০২৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত এই মিলনক্ষেত্র প্রসারিত হবে আধ্যাত্মিকতার অমৃতধারায়।
দেবেন্দ্র জানান, ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর ত্র্যম্বকেশ্বর, রামকুণ্ড এবং নাসিকের পঞ্চবটিতে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই মহাযজ্ঞের শুভ সূচনা হবে। এরপর পুণ্যার্থীদের অমৃত স্নানের পালা। ২০২৭ সালের ২৯ জুলাই নগর প্রদক্ষিণ, ২ আগস্ট প্রথম অমৃত স্নান (সোমবতী অমাবস্যা), ৩১ আগস্ট দ্বিতীয় অমৃত স্নান (অমাবস্যা), এবং তৃতীয় তথা শেষ অমৃত স্নান ১১ সেপ্টেম্বর নাসিকে ও ১২ সেপ্টেম্বর ত্র্যম্বকেশ্বরে (একাদশী) অনুষ্ঠিত হবে। ভক্তদের পদধূলিতে মুখরিত এই মেলা শেষ হবে ২০২৮ সালের ২৪ জুলাই পতাকা নামানোর মধ্য দিয়ে।
মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই তারিখগুলি স্থির করা হয়। বৈঠকে ১৩টি আখড়ার প্রধান ঋষি, মহন্ত এবং সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। দেবেন্দ্র ফড়নবীশ বলেন, “এই মহাযজ্ঞের প্রস্তুতিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আখড়া, সাধু-সন্ত এবং পুরোহিত সংঘের প্রতিনিধিদেরও সমস্ত বিষয়ে অবগত করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই চার হাজার কোটি টাকার দরপত্র জমা পড়েছে এবং আরও দুই হাজার কোটি টাকার দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই উন্নয়নের মধ্যে গোদাবরী নদীর পরিষ্করণ, নিকাশি ব্যবস্থা স্থাপন, জল পরিশোধন এবং আরও জল ছাড়ার কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাধুগ্রামের জন্যও জমি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং শীঘ্রই তা অধিগ্রহণ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, মেলা দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। ত্র্যম্বকেশ্বরের কুশবর্তের মতো সংকীর্ণ স্থানে পদপিষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনা এড়াতে বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি করা হচ্ছে।
নাসিক কালেক্টরেটের এক আধিকারিক জানান, নাসিক এবং ত্র্যম্বকেশ্বরের মেলার এলাকা তুলনামূলকভাবে সীমিত, কারণ এই মেলা শহরের কেন্দ্রস্থলেই অনুষ্ঠিত হয়। বিপরীতে, প্রয়াগরাজ, উজ্জয়িনী বা হরিদ্বারের কুম্ভ মেলার জন্য নির্দিষ্ট সুবিশাল স্থান রয়েছে। সিংহস্থের প্রস্তুতি পুরোদমে চললেও, মহারাষ্ট্রের মহায়ুতি সরকার এখনও নাসিকের মেলার দায়িত্বে কে থাকবেন, তা ঘোষণা করেনি। এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য ক্ষমতাসীন তিনটি দলের মধ্যে নাকি চলছে নীরব প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে ফড়নবীশ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই বিষয়টিকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।
মহারাষ্ট্র সরকার আরও জানিয়েছে, মহন্ত রাজেন্দ্রদাস মহারাজের পরামর্শে শাহি স্নানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে অমৃত স্নান, যেমনটি উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলার সময় করা হয়েছিল। ফড়নবীশের দৃঢ় বিশ্বাস, “আমরা নিশ্চিত করব যে এই সিংহস্থ কুম্ভমেলা সুপরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং সকলের স্মৃতিতে এক অমলিন অধ্যায় তৈরি করবে।”