গ্রেফতার শর্মিষ্ঠা পানোলি! কারণ কী? সোশ্যাল মিডিয়ায় জানালেন কলকাতা পুলিশ

সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়া থেকে সোজা শ্রীঘরে! ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন শর্মিষ্ঠা পানোলি, এক পরিচিত মুখ সোশ্যাল মিডিয়ায়। হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে তার এই আকস্মিক গ্রেপ্তার ঘিরে দেশজুড়ে উঠেছে ঝড়, বিশেষত রাজনৈতিক আঙিনায়।
এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে আসরে নেমেছে কলকাতা পুলিশ। তাদের এক্স হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্টে সাফ জানানো হয়েছে, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, পুলিশ নাকি এক আইনের ছাত্রীকে পাকিস্তানের বিরোধিতা করার ‘অপরাধে’ ধরে এনেছে। কলকাতা পুলিশের চোখে এই ব্যাখ্যা ‘পুরোপুরি ভুল এবং বিভ্রান্তিকর’।
তাদের স্পষ্ট বার্তা, দেশপ্রেম বা জাতীয় গর্ব প্রকাশ করা যে কোনও নাগরিকের অধিকার। কলকাতা পুলিশ এর ব্যতিক্রম মানে না এবং সর্বদা ভারতীয়দের পাশে আছে। তাহলে কেন এই গ্রেপ্তার?
পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১৫ই মে, গার্ডেনরিচ থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার হাত ধরে। শর্মিষ্ঠার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এমন একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন যা একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিশ্বাসে আঘাত হানে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষের জন্ম দেয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়।
আইনের পথে হেঁটে, অভিযুক্তকে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই দেখা যায় তিনি ও তার পরিবার ‘পলাতক’। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ, জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। সেই পরোয়ানাকে হাতিয়ার করেই গুরুগ্রাম থেকে পাকড়াও করা হয় শর্মিষ্ঠাকে এবং পেশ করা হয় স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হতেই তাকে পাঠানো হয়েছে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে।
কলকাতা পুলিশের জোরালো বার্তা, বর্তমান আইনে কোনও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সম্প্রদায় বা ভারতের কোনও শ্রেণির বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ঘৃণাসূচক মন্তব্যকে বাক স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলে ভুল ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। এই পরিস্থিতিতে, যখন গোটা দেশ ঐক্যবদ্ধ এবং সীমান্তে লড়ছে জওয়ানরা, তখন এমন বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট পোস্ট করা দেশের শত্রুদেরই সুবিধা করে দেয় বলে মনে করে পুলিশ।
তাদের শেষ কথা, আইন মেনেই কাজ করছে কলকাতা পুলিশ। শর্মিষ্ঠাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি তার দেশপ্রেম বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জন্য, বরং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানোর মতো আপত্তিকর বিষয় শেয়ার করার অভিযোগে।
তবে শর্মিষ্ঠার গ্রেপ্তারির পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তরজা তুঙ্গে। কেউ বলছেন বাক স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, তো কেউ বলছেন বিদ্বেষ ছড়ানোর শাস্তি প্রাপ্য। বিজেপি নেতারা এই গ্রেপ্তারির বিরোধিতায় সরব, এটিকে ‘হিন্দু কণ্ঠ রোধের চেষ্টা’ আখ্যা দিচ্ছেন। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্রও এই গ্রেপ্তারকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার লঙ্ঘন বলে মনে করছেন।
উল্লেখ্য, শর্মিষ্ঠা পানোলি পুনের এক আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তার অগুনতি ফলোয়ার। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে তার একটি বিতর্কিত ভিডিও থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। যদিও বিতর্কের মুখে তিনি ভিডিওটি সরিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন, কিন্তু আইনের হাত তার পিছু ছাড়েনি। আপাতত ১৩ জুন পর্যন্ত তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে।