‘PoK-র দাবি ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনও কথা নয়’! বিদেশেও গর্জে উঠলেন অভিষেক

বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘুরে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের আসল চেহারাটা যেন আরও স্পষ্ট করে তুলছে ভারতের সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল। পহেলগাঁওয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে অপারেশন সিঁদুর, আর তার পরবর্তী ঘটনাক্রম – সব কথাই যেন তুলে ধরা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। এবার কুয়ালালামপুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রীতিমতো ফুঁসে উঠলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট করে দিলেন, জাতীয় স্বার্থের সামনে তাঁর রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিতান্তই তুচ্ছ।
জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝায়ের নেতৃত্বে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার পর বর্তমানে কুয়ালালামপুরে রয়েছেন অভিষেক। সেখানেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠে যেন আগুনের ফুলকি। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো গোটা বিশ্ব দেখেছে, কীভাবে পাকিস্তানের সেনা কর্তারা সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন।
অভিষেকের স্পষ্ট কথা, “গত ২২ এপ্রিল ২৬ জন মানুষকে যেভাবে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে খুন করা হল… একজন বিরোধী সাংসদ হিসেবে আমি চাই, পাকিস্তানের সঙ্গে শুধুমাত্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে কথা হোক। নাহলে এই ধরণের জঙ্গি হামলা চলতেই থাকবে। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।”
তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এখানে এসেছেন, কেন্দ্রের শাসকদলের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু বিদেশে তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই জাতীয় স্বার্থের সামনে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে প্রাধান্য দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যেও বার্তা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আমি এখানে আপনাদের জ্ঞান দিতে আসিনি। ভারত থেকে যারা দূরে থাকেন, তাঁরা আমাদের থেকেও অনেক বেশি জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমী। বিদেশে আপনারা সন্তানদের ভারতীয় সংস্কৃতি ও মাতৃভাষায় শিক্ষিত করে তোলেন। আপনাদের এই সমর্থনের জন্যই আমরা বিশ্বকে জানাতে চাই, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে ভারত একা নয়। আমাদের কৌশলী অংশীদার এবং ভারতীয় সম্প্রদায়ও আমাদের পাশে আছে।”
কুয়ালালামপুরই শেষ নয়, এর আগেও বিশ্বের নানা প্রান্তে গিয়ে অভিষেক ও তাঁর দল পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মুখোশ খুলে দিতেও তাঁরা পিছপা হননি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের এই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর যেন আরও একবার প্রমাণ করল, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।