প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিম, আটকে বহু পর্যটক, জেনেনিন সর্বশেষ পরিস্থিতি

উত্তর-পূর্ব ভারতজুড়ে যেন প্রকৃতির তাণ্ডবলীলা চলছে। প্রবল বর্ষণের জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন, বিশেষ করে সিকিমের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় নেমেছে ধস, বন্ধ হয়ে গেছে অসংখ্য রাস্তা। এর ফলে উত্তর সিকিমে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কিছু বিদেশিও। লাচুং এবং লাচেন যাওয়ার প্রধান সড়কপথ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

পিটিআই সূত্রে খবর, শনিবার থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টি এবং ধসের কারণে সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকে পড়েছেন। উত্তর সিকিমে আটকে পড়া পর্যটকদের এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রবল বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে, যার ফলে নিখোঁজ ৮ জনের তল্লাশি অভিযান আপাতত বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। মঙ্গনের পুলিশ সুপার দেৎচু ভুটিয়া জানিয়েছেন, লাচেনে ১১৫ জন এবং লাচুংয়ে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন।

মঙ্গনে অবিরাম বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পানীয় জল সরবরাহও চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আপাতত উত্তর সিকিমের জন্য কোনো নতুন পর্যটক পারমিট দেওয়া হচ্ছে না। উত্তর সিকিমের বেশ কিছু এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রবিবারও আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আগামী সোম ও মঙ্গলবার ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকবে, যা উত্তর সিকিমে আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারকাজ নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি করেছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোনে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসন ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করলেও, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানে বারবার বাধা আসছে।

শুধু সিকিম নয়, টানা বৃষ্টিতে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলিও বিপর্যস্ত। আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রবিবার আসাম-অরুণাচল সীমান্তে বোমজির নদী থেকে ভারতীয় বায়ুসেনা ১৪ জনকে উদ্ধার করেছে। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলাও হড়পা বানে বিপর্যস্ত। আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ এবং মিজোরামের মতো রাজ্যগুলিতে গত দু’দিনে বৃষ্টির কারণে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আসামে বন্যার প্রভাব ১৫টি জেলার ৭৮ হাজার বাসিন্দার জীবনে পড়েছে। মণিপুরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং গত ৪৮ ঘণ্টায় ৮৮৩টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। টানা দু’দিনের বৃষ্টির কারণে ত্রিপুরার সব নদীতেই জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ত্রিপুরা প্রশাসন ২৮টি ত্রাণশিবির খুলেছে, যার মধ্যে ২৫টিই আগরতলায়। এই শিবিরগুলিতে ৬ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

মৌসম ভবন জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত রাজ্যেই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এই পরিস্থিতিতে আরও কত দিন এই অঞ্চলের মানুষকে প্রকৃতির রোষানল সহ্য করতে হবে, তা বলা কঠিন।