“২ দিনে ৩০ জনের মৃত্যু”-ভাঙল ৬৭ বছরের পুরোনো বৃষ্টির রেকর্ড, বিপর্যস্ত উত্তর-পূর্ব ভারত

বর্ষা প্রবেশ করতে না করতেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নেমে এসেছে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। গত দু’দিনে হড়পা বান, ভূমিধস ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মণিপুর এবং মিজোরাম—এই রাজ্যগুলো এখন বৃষ্টির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড। জায়গায় জায়গায় ভূমিধসে জনজীবন সম্পূর্ণ ব্যাহত।

সব থেকে খারাপ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে অসমে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে রাজ্যের ১২টি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। বন্যা ও ভূমিধসে অসমে এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, অসমে আপাতত বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। আবহাওয়া অফিস রাজ্যের কিছু অংশের জন্য লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে।

অসমে গত ২৪ ঘণ্টায় টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ছয়টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার কারণে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। বৃষ্টির জেরে রাস্তা ধসে পাঁচ জনের মৃত্যু ঘটেছে বলে খবর। অসমের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী জয়ন্ত মাল্লা বড়ুয়া শুক্রবার জানিয়েছেন যে, গুয়াহাটির উপকণ্ঠে বোন্ডা এলাকায় ভূমিধসে তিন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। মেট্রোপলিটন জেলা থেকে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

মৌসম ভবন সূত্রে খবর, গুয়াহাটিতে একদিনে ১১১ মিমি বৃষ্টি হয়েছে, যা ৬৭ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ব্যাপক বৃষ্টির ফলে প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে ব্রহ্মপুত্র-সহ উত্তর-পূর্বের অনেক নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, অরুণাচল প্রদেশে মৃতের সংখ্যা ৯ ছাড়িয়ে গেছে। অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব কামেং জেলায় ভূমিধসে একটি গাড়ি রাস্তা থেকে তলিয়ে যাওয়ায় দুটি পরিবারের সাতজন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার অরুণাচল প্রদেশের বানা এবং সেপ্পার মধ্যবর্তী জাতীয় সড়ক ১৩-এর পাশে ভূমিধসে একটি ব্রেজা গাড়ি গভীর খাদে পড়ে যায়, তাতেই এই দুর্ঘটনা। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার ধারে আরও একটি সুমো গাড়িও আটকে পড়েছিল, তবে সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের তরফে এই বর্ষার মরশুমে রাতে রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বেরোতে বারণ করা হয়েছে।

বর্ষার শুরুতেই উত্তর-পূর্ব ভারতের এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে, কিন্তু প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ কবে শান্ত হবে, তা বলা কঠিন।