ভারী বৃষ্টিতে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ তিস্তার, ঘরবন্দি ৭৮টি পরিবার

বর্ষার শুরুতেই ভয়াবহ পরিস্থিতি সিকিম ও উত্তরবঙ্গে। প্রবল বৃষ্টির জেরে তিস্তা নদী তার ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ব্লকের চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। তিস্তার জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই এলাকার ৭৮টি পরিবার এখন জলবন্দি। প্রত্যেকের বাড়ির ভেতরেই ঢুকেছে বন্যার জল।
গত দুই সপ্তাহ ধরে চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা জলমগ্ন। প্রাণ বাঁচাতে এলাকার অনেক বাসিন্দাই নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধের উপরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রশাসনের দেওয়া ত্রাণই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। এই পরিস্থিতিতে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান ক্রান্তি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পঞ্চানন রায়।
শনিবার তিনি নৌকায় চেপে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে খবর নেন এবং বাসিন্দাদের সমস্যার কথা শোনেন। এলাকা পরিদর্শনের পর পঞ্চানন রায় বলেন, “এই জায়গাটি তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকা। এখানকার মানুষজনকে ওই এলাকা ছেড়ে চলে আসার জন্য বলা হয়েছে। বাঁধের উপরে অস্থায়ীভাবে বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা প্রয়োজন মতো সহযোগিতা করছি।” এই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সভাপতিকে তাদের সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে জানান।
ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকাবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই তাদের সেখানে পাঠানো হবে। বর্ষার একেবারে শুরুতেই এমন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এলাকাবাসীরা রীতিমতো চিন্তায় পড়েছেন। তিস্তার জল ঠেকাতে প্রশাসনকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।