“কথা রেখেছি, ধুলোয় মিশিয়েছি জঙ্গি ঘাঁটি”-ভোটমুখী বিহারে মোদীর মুখে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বার্তা

‘কথা দিয়ে কথা রেখেছেন তিনি!’ – এই বার্তাই আজ জোরালোভাবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ভোটমুখী বিহারে তাঁর সাম্প্রতিক সফরে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার মাত্র দু’দিন পরেই বিহারে এসে মোদী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জঙ্গিদের কল্পনাতীত শাস্তি দেওয়ার এবং তাদের শিবির ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবিই আজ তাঁর ভাষণে মুখ্য হয়ে ওঠে।

‘অপারেশন সিঁদুর’: ৯টি জঙ্গি শিবির ধ্বংস, মোদীর মুখে সাফল্যের সুর
প্রধানমন্ত্রী আজ বিহারে দাঁড়িয়ে সরাসরি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমি আমার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, “পহেলগাঁও হামলার ২ দিন পর বিহারে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, জঙ্গিদের ঘাঁটি মাটিতে মেশাব। বলেছিলাম, এমন শাস্তি দেব যা কল্পনাতীত। আবার বিহারে এলাম। আমি আমার কথা রেখেছি।”

মোদী আরও বলেন, “পাকিস্তানে বসে যারা আমাদের বোনেদের সিঁদুর মুছেছে, আমাদের সেনা সেই সব জঙ্গিদের শিবির ধ্বংস করে গিয়েছে। পাকিস্তান এবং গোটা বিশ্ব সিঁদুরের ক্ষমতা দেখেছে।” সরকারের তরফে দাবি করা হচ্ছে, এই অভিযানে পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি শিবির ধ্বংস হয়ে গেছে। চলতি বছরের শেষের দিকে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে মোদীর এই ‘প্রতিশ্রুতি পূরণ’-এর বার্তা রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিরোধীদের অভিযোগ: ‘সেনা অভিযানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার’
‘অপারেশন সিঁদুর’কে কার্যত রাজনৈতিক ‘হাতিয়ার’ করেছে মোদী বাহিনী, এমন অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, সেনার এই অভিযানকে সামনে রেখে বিজেপি নির্বাচনী প্রচার কৌশল গ্রহণ করছে। গত কয়েক দিনে প্রধানমন্ত্রী যে সভাগুলো করেছেন, তার প্রত্যেকটিতেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনেছেন। গতকাল, বৃহস্পতিবার, পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের সভা থেকেও তিনি একই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন।

‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি, থামেওনি’
বিহারে প্রধানমন্ত্রী এদিন আরও কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, “‘অপারেশন সিঁদুরের হাত ধরে ভারতের ক্ষমতা দেখেছে শত্রুরা… সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষও হয়নি, থামেওনি। যদি আবার সন্ত্রাসবাদের ঘটনা ঘটে, তা হলে ভারত আবারও তা কড়া হাতে দমন করবে।”

মোদী সরকারের এই ধরনের আগ্রাসী বার্তা এবং নির্বাচনী আবহে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বারবার উল্লেখ, বিহারের আসন্ন নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।